চট্টগ্রামে হেফাজতের জনসভায় ঘোষণা

দাবি না মানলে ৫ মে ইসলামি বিপ্লব

রাসুল (সা.) ও ইসলাম অবমাননাকারীদের ফাঁসির আইন প্রণয়নসহ ১৩ দফা না মানা হলে আগামী ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ইসলামী বিপ্লব ঘটানোর হুমকি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। তারা প্রচলিত সংবিধান বাতিল করে পবিত্র কুরআন শরীফকে সংবিধান হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে মদীনা সনদের দিক-নির্দেশনা অনুসরণ করার অঙ্গীকার করায় হেফাজত নেতারা প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। তবে মদীনা সনদ নারী নেতৃত্ব অনুমোদন করে না, এমন দাবি করে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তারা। এছাড়া মদীনা সনদের অন্যতম শর্ত অনুযায়ী নাস্তিক ও মুরতাদদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন তারা। হেফাজত নেতারা বাংলাদেশকে আল্লাহ ও রাসুলের দেশ উল্লেখ করে নাস্তিকদের এদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে শানে রেসালত সম্মেলনে হেফাজত নেতারা এসব কথা বলেন। বক্তারা সাভারে ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এছাড়া আগামী ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তৌহিদী জনতার প্রতি আহ্বান জানান। গত ৬ এপ্রিলের লংমার্চ কর্মসূচির চেয়ে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে অনেক বেশি লোকসমাগম হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, দ্বীনের দাবিতে, ধর্মের দাবিতে হেফাজতে ইসলাম মাঠে নেমেছে। ক্ষমতা দখল করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। ধর্ম না থাকলে দুনিয়ায় বেঁচে থাকার দরকার নেই। যতদিন আমরা বেঁচে থাকব, ধর্মের জন্য জেহাদ করেই বেঁচে থাকব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছে। অবিলম্বে হেফাজতের ১৩ দফা দাবি পূরণের উদ্যোগ নিন। আল্লামা শফী বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আমাদের বিবাদ নেই। যারা আল্লাহকে মানছে না, রাসুলের (স.) সাথে বেয়াদবি করছে, আমরা শুধু তাদের শাস্তি দাবি করছি। তিনি বলেন, এটা কমিউনিস্টের দেশ নয়। এটা আল্লাহর দেশ। যারা নাস্তিক্যবাদী তাদের এদেশে থাকার অধিকার নেই। নাস্তিকরা এদেশ ছেড়ে চলে যান। এটা মুসলিমদের দেশ। এ মাটি ছেড়ে মুসলিমরা কোথাও যাবে না। আল্লাহর নাফরমানি করে কেউ এদেশে থাকতে পারবে না। আল্লাহর নেয়ামত খেতে পারবে না। সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মদীনা সনদ মেনে চলার অঙ্গীকার করেছেন। আমরা এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। একই সাথে আমরা তার পদত্যাগও দাবি করি। কারণ মদীনা সনদ নারী নেতৃত্ব অনুমোদন করে না। তাই মদীনা সনদের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে। মুরতাদদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। তিনি বলেন, হেফাজতের ১৩ দফা দাবি মদীনা সনদের আলোকেই করা হয়েছে। সরকারকে এসব দাবি পূরণ করতেই হবে। আগামী ৫ মে‘র মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হবে। তিনি ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য আগের দিন নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে জমায়েত হতে হেফাজত কর্মীদের নির্দেশ দেন। এসময় তিনি তাদের মুড়ি, চিড়াসহ বিভিন্ন ধরনের শুকনা খাবার সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেন। সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১৩ দাবি না মানা হলে ৫ মে দেশে ইসলামী বিপ্লব ঘটিয়ে ইমরান এইচ সরকারসহ সকল বেয়াদবকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, আল্লামা শফীর মাধ্যমে বাংলাদেশে ইমাম মাহাদীর আগমনের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। এদেশে আল্লামা শফীর ছাত্র রয়েছে ১ লাখ। এছাড়া তার মুরিদ রয়েছেন ১ কোটি। তারা এদেশে ইসলামী বিপ্লবের জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর কমিটির অন্যতম নেতা মুফতি মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, ৫ মে‘র মধ্যে ১৩ দফা না মানলে পবিত্র কুরআন শরীফকে সংবিধান ঘোষণা করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব আল্লামা আহমদ শফীর হাতে তুলে দেয়া হবে। ইসলামী বিপ্লব হলে দেশে পদ্মা সেতু হবে। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হবে না। তিনি বলেন, এখন থেকে দেশ চলবে আল্লামা শফীর নির্দেশে। আল্লামা শফীর বিরুদ্ধে সরকারের কোনো মন্ত্রী কথা বললে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঢাকা মহানগর নেতা মাওলানা মো. ইসহাক বলেন, হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বিভিন্ন বাহিনীর লোকজন মাদরাসায় গিয়ে তাদের হয়রানি করছে। থানায় ডেকে নিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। মামলা দেয়া হচ্ছে। সংগঠনের উপদেষ্টা ড. আফম খালেদ হোসেন ১৩ দফা প্রশ্নে জাতির ম্যান্ডেট নিতে গণভোট দেয়ার দাবি জানান। তিনি দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংশোধন করে ধর্ম অবমাননার শাস্তি আরও কঠোর করার দাবি জানান। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মুফতি মুজাফফর আহমেদ, মাওলানা সৈয়দ আবদুল মালেক হালিম, মাওলানা আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট, মাওলানা জাফর উল্লাহ খান, মাওলানা হাফেজ আহমদ উল্লাহ প্রমুখ।