‘শিপ ব্রেকিং’ ব্যবসায়ে ধস

‘শিপ ব্রেকিং’ বা পুরাতন জাহাজ ভাঙা ব্যবসায় বর্তমানে চরম মন্দা অবস্থা চলছে। দেশের বাজারে হঠাত্ দাম পড়ে যাওয়ায় পুরান জাহাজ আমদানি আশংকাজনক হারে কমে গেছে। তবে এখনো প্রচুর জাহাজ সাগরে ভাসছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে দেশীয় বাজারে দাম কমায় জাহাজগুলো ভাঙা হচ্ছে না। ফলে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডগুলোতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। শীপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশন বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানায়, গত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত মাত্র ৪৫টি পুরাতন জাহাজ আমদানি করা হয়েছে। বহির্নোঙরে আরো প্রায় ১০টি জাহাজ নোঙর করেছে। কিন্তু আমদানি করা এসব জাহাজের মধ্যে মাত্র ১০/১২টি জাহাজ ভাঙা হচ্ছে সীতাকুন্ডের বিভিন্ন ইয়ার্ডে। অথচ অক্টোবরের আগে এক বছরে পুরাতন জাহাজ আমদানি হয়েছে ২৪০টি। ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যাংক ঋণ নিয়ে কড়াকড়ি ও বাজার মূল্য কম হওয়ায় জাহাজ ভাঙা ব্যবসায় ধস নেমেছে। সমপ্রতি সময়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে দেশে যে কয়েকটি বড় ধরনের আত্মসাত্ ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে পুরাতন জাহাজ ব্যবসায়। ব্যাংকগুলো ঋণের সুদ স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার আমদানি করা জাহাজ ভেঙে বাজারে বিক্রি পর্যন্ত যে মূল্য দাঁড়ায় তাতে দেশীয় বাজারে প্রতিটনে প্রায় ২ হাজার টাকারও বেশি লোকসান দিতে হচ্ছে। এ কারণে অনেকেই জাহাজ আমদানি করলেও না ভেঙে রেখে দিয়েছেন। জাহাজ আমদানিও কমিয়ে দিয়েছেন তারা। প্রসঙ্গত, আমদানি করা জাহাজ ইয়ার্ডে এনে ভাঙা পর্যন্ত প্রতিটনে খরচ পড়ে প্রায় ৪১/৪২ হাজার টাকা। আর বর্তমানে দেশে জাহাজ ভাঙা প্লেটের বাজার মূল্য প্রতিটন সাড়ে ৩৪ থেকে সাড়ে ৩৯ হাজার টাকা। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় রয়েছে প্রায় ৫০টি পরাতন জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায় মন্দার কারণে অধিকাংশ ইয়ার্ড ফাঁকা। শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। মাত্র ৫/৬টি ইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙার কাজ হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পুরাতন জাহাজ আমদানিকারক এসএম আবু তাহের ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমদানি খরচের চেয়ে দেশে বাজার মূল্য কম। তাই জাহাজ না ভেঙে মন্দা কাটিয়ে উঠার অপেক্ষা করছি।’ বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হেফাজেতুর রহমান বলেন, ‘দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতায় জাহাজ ভাঙা শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আর দেশীয় বাজারে পণ্যের দাম কমে গেছে। তবে দেশে চাহিদা থাকলে কোন সমস্যা হতো না।’ রি-রোলিং মিলে কাঁচামাল সংকটের আশংকা এদিকে দেশের প্রায় চার শতাধিক রি-রোলিং মিল রয়েছে। রি-রোলিং মিলগুলোতে কাঁচামালের চাহিদার ৮০ শতাংশ জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে যোগান দেয়া হয়। দেশে বছরে ২০ লাখ মেট্রিক টন লোহার চাহিদা রয়েছে। জাহাজ ভাঙা কমে যাওয়ায় দেশের রি-রোলিং মিলগুলোতে কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশংকা করছেন মিল মালিকরা।