চরাঞ্চলের মানুষের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

দ্বীপ চরের মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণে তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কর্মসূচীতে কোটা আরোপ করার দাবি জানিয়েছেন কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে উন্নয়ন সমন্বয় এবং কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি জানান। সভায় ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম, শাহ জিকরুল আহমেদ এবং চ্যানেল-৭১ এর হেড অব নিউজ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজাসহ আরও অনেকে। সভায় একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা সমন্বয়ক জাহিদ রহমান। এ সময় তিনি বলেন, চরাঞ্চলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ লোক চরম খাদ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে বাস করে। যাদের ৭০ ভাগ মানুষের নিজস্ব কোনো জমি নেই। চরাঞ্চলের ৭৯ ভাগ অতি দরিদ্র সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ৮৫ ভাগ গর্ভবতী নারী গর্ভকালীন সেবা থেকে বঞ্চিত। দ্বীপ চরের প্রায় ৬৫ ভাগ মানুষ সারা বছরই খাদ্য কষ্টে থাকে। তাই এ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। অথচ গত দুই বছর ধরে বাজেটে তা দেয়া হয়নি। এম এম আকাশ তার বক্তব্যে বলেন, দেশের সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ বসবাস করে চরাঞ্চলে। তাই এসব এলাকায় বাড়তি মনযোগ দেয়া প্রয়োজন। অথচ চরাঞ্চলের মানুষের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের ধারাবাহিকতা সন্তোষজনক নয়। চরাঞ্চলের মানুষের স্থায়ী উন্নয়নে ভূমি সংস্কার, বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শস্য বীমা প্রবর্তন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। সভাপতির বক্তব্যে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে ওই এলাকাগুলোতে পাকা দালানে প্রাইমারি স্কুল করা দরকার। যেন এ স্কুলগুলো বিভিন্নভাবে কাজে লাগানো যায়। স্কুলগুলোতে ওই অঞ্চলের মধ্য থেকেই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত বা কম শিক্ষিত হলেও তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষক হিসেবে উপযুক্ত করতে হবে। চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবার অভাব প্রকট উল্লেখ করে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, স্বাস্থ্য সেবার জন্য স্কুলে মোবাইল ইউনিটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়া বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে এ অঞ্চলগুলোকে কোটার আওতায় আনার পাশাপাশি চরের খাস জমি জমিহীনদের দেয়ার সুপারিশ করেন তিনি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিএসআর (কর্পোরেট স্যোশাল রেসপনসিবিলিটি) এর অর্থ ওই অঞ্চলে ব্যয় করার পরামর্শ দিয়ে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সরকারের সহায়তায় বেসরকারি পরিচালনায় একটি চর ফাউন্ডেশন করা যেতে পারে। যারা চরের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।