মায়েদের জন্য প্রেমার প্রেম

জেসমিন প্রেমা মনে করেন প্রত্যেক মানুষেরই কাজ আর মানুষের সাথে প্রেম দরকার। সেই প্রেম থেকেই নিজ উদ্যোগে কয়েকজন সমাজকর্মী ও বন্ধুদের নিয়ে সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা স্কাস প্রতিষ্ঠান করেন ১৯৯৬ সালে । আমাদের সমাজে সন্তান না হওয়ার জন্য একজন নারীকে সহ্য করতে হয় কষ্ট, লজ্জা আর অপবাদ। যারা না পারে তারা কেউ কেউ ঘর ছাড়ে। অনেক যুদ্ধ করে বেঁচে যায় কোন মতে। নারীর সার্থকতা ও জীবনের মূল্য কি শুধু সন্তান ধারণে। একজন নিঃসন্তান নারীর কি কোন মূল্য নাই, এই প্রশ্ন সকলের কাছে প্রেমার। কারণ প্রেমা দেখেছেন ৪০ বছর সংসার করে একজন মাকসুদা বেগমকে শেষ বয়সে আশ্রয় নিতে হয়েছে আশ্রমে? সন্তান দেরিতে হওয়ার জন্য একসময় নিজেও শিকার হয়েছিলেন অনেক অপবাদ ও রসিকতার। নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছিলেন চেনা-জানা ও প্রিয় মানুষদের কাছ থেকে। যে মানুষটিকে ভালোবেসে ছিলেন সে শুধু স্বামী ছিলেন না ছিলেন বন্ধুও। তাইতো তিনি জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছেন জেসমিন প্রেমা। তিনি বলেন, যেদিন ছেলে ইসফার মারুফের মা হতে পেরেছি। সেদিন থেকে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমার জীবনটা উত্সর্গ করবো নিঃসন্তান নারীদের জন্য। স্কাস সেভাবেই কাজ করছে। তিনি বিভিন্ন দেশে কনফারেন্স, সেমিনার, ডায়ালগ ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের অবদানের জন্য তিনি স্বাধীনতা দিবস সম্মাননা-২০১২সহ পান বেশ কিছু সম্মাননা। ১৯৭২ সালে প্রেমা ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পৈত্রিক নিবাস রাজবাড়ী জেলায়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষ ডিগ্রি অর্জন করার আগে থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সখ প্রেমার । এম এ পাস করার পরেই পুরোদস্তু কাজে নামেন। কাজের ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, নারীদের এই দুরবস্থা আমাকে নারীদের নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগায়। ১৫ বছর আগে যখন কাজ শুরু করি তখনকার নারীরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ছিল অবহেলা ও বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হত। তবে বর্তমানে নারীর অগ্রগতি ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও মধ্যম পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। প্রেমা স্বপ্ন দেখেন আছে অনেক কিছু করার কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং আর্থিক সংকটের কারণে পরিকল্পনামাপিক সব সময় সবকিছু হয় উঠে না। তবে নিঃসন্তানদের জন্য বৃহত্ আকারে কাজ করার ইচ্ছা আছে তার। ইতোমধ্যে স্কাস-এর নিজ উদ্যোগে নিঃসন্তান নারীদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম জেলার ৪টি উপজেলায় নিঃসন্তান নারীদের মাঝে জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।