কেমন হবে শিশুর বিকাশ

কোনো পরিবারে একটি শিশুর আগমনে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। কিন্তু এই শিশুকে সুন্দরভাবে বড়ো করে তোলা পৃথিবীর সব থেকে কঠিন কাজগুলোর অন্যতম। শিশুকে বুঝতে হয়, তাকে অনুভব করতে হয়। মানসিকতা বুঝে শিশুর মতো করেই মিশতে হয় তার সাথে। আর একটি শিশুকে বড়ো করে তোলার সময় তার শিক্ষার দিকটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বিশিষ্ট দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল বলেন, মানুষের জন্মের পর থেকেই সে শিক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করে। আর শিশুর বয়স ১৫ দিন হওয়ার পর থেকে সে স্মৃতিতে ধারণ করতে থাকে। একটি শিশু কেমন হবে বা তার মানসিক বিকাশটা কেমন হবে সেই কাজটাও জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়। তাই এই সময়টা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এই সময়ে পরিবারের প্রত্যেকের; বিশেষ করে মা এবং বাবাকে অনেক বেশি সচেতন হতে হয়। একটি শিশুকে সুন্দরভাবে মানুষ করে তোলার জন্য খুব অল্প বয়স থেকেই তার মধ্যে কিছু গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে হয়। যেমন, বইপড়া, মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলা, অযথা বায়না না ধরা ইত্যাদি। একটু সচেতন হলেই একটি শিশুর মধ্যে এই গুণাবলীর বিকাশ ঘটানো সম্ভব। শিশুকে পড়াশুনা করানো এবং পড়াশুনার প্রতি মনোযোগী করে তোলা অনেক কঠিন কাজ। তবে যে সব শিশু নিজের থেকেই পড়াশুনার প্রতি আগ্রহী হয় তাদের ব্যাপার আলাদা। কিন্তু দেখা যায় অধিকাংশ শিশুর পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ কম থাকে। এজন্য তাদের সাথে একটু কৌশলে চলতে হবে। দেখা যায় সব শিশুই খেলা পছন্দ করে। অমনোযোগী শিশুদেরকে খেলার ছলে পড়াশুনার দিকে টেনে আনতে হবে। সুন্দর সুন্দর ছবি এবং এ্যানিমেশন দিয়ে করা বই পাওয়া যায় বাজারে এখন। এই বইগুলো শিশুদের সামনে রাখলে তারা খেলার বস্তু মনে করেই বই নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকবে। এভাবে ধীরে ধীরে দেখা যাবে এক সময় শিশুটিকে বই নিয়ে বসার জন্য আর বলতে হচ্ছে না, সে নিজে থেকেই বই নিয়ে বসে পড়ছে। এভাবে সে পড়াশুনার প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠবে। আবার অনেক মা শিশু পড়তে না চাইলে কিংবা না খেতে চাইলে বকাঝকা কিংবা মারধর পর্যন্ত করেন। এটি মোটেও ঠিক না। কোনো শিশুর শরীরে হাত তোলা কোনোভাবেই, কোনো অবস্থাতেই উচিত না। এতে তার মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর সাথে শিশু হয়েই মিশতে হবে। তাতে তাদের কাছে যাওয়া যাবে। বড়ো হলে আপনার কাছে সে তার সব কথাগুলো বলবে নির্ভয়ে। শিশুদের সাথে ভয়ের সম্পর্ক না গড়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলুন। এতে আপনার এবং আপনার শিশুর উভয়েরই লাভ। পাশাপাশি আর একটি বিষয় মনে রাখতে হবে; শিশুকে আবার এতোটা আদর দেয়া ঠিক হবে না যাতে সে ভবিষতে বিগড়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বাবা-মায়ের অতিরিক্ত আদরের কারণে শিশুটি ধীরে ধীরে বিগড়ে যাচ্ছে। এই বিষয়ে ড. এম আর খানের একটি কথা স্মরণযোগ্য। তিনি বলেছিলেন, দেখা যায় একটি শিশু কোনো কিছু চাওয়ার সাথে সাথেই পেয়ে যায়। তার খেলনা সামগ্রী থেকে শুরু করে কোনো কিছুরই কোনো অভাব থাকে না। এই না চাইতেই পেয়ে যাওয়া থেকে তার মানের মধ্যে সব কিছুর প্রতি এক ধরনের অনীহা চলে আসে। কারণ সে ভাবতে থাকে আমার তো কোনো কিছুর অভাব নেই। এই অনীহার কারণে সে বড়ো হয়ে কোনো কাজে সেভাবে আগ্রহ পায় না। তার দ্বারা ভাল কোনো কাজ আশা করা যায় না। তাই একটি শিশুকে বড়ো করার সময় যেমন তাকে আদরের মধ্যে রাখতে হবে তেমনি তাকে জীবনে বোঝার সুযোগ করে দিতে হবে। মোটকথা একটা ব্যালেন্স রেখে সুন্দরভাবে মানুষ করে তুলতে হবে শিশুকে।