সাভারে আহতদের দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী

হরতাল ভাঙচুরের সময় এখন নয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে ভবন ধসে নিহতদের পরিবার ও আহতদের সার্বিক পুনর্বাসনের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, হরতাল, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় এখন নয়। এখন একজনের পাশে আরেকজনকে দাঁড়াতে হবে। সবাইকে সহমর্মিতা দেখাতে হবে। সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। পুনর্বাসনই এখন প্রধান কাজ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুর্যোগের সময় সবার উচিত সাহায্য করা। এখন রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর কারো কাম্য নয়। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের আইনগত সহায়তা দিতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের পাশাপাশি ‘শ্রমিক সহায়তা সেল’ গঠন করা হবে। শ্রমিকরা যাতে ন্যায়বিচার পায় সে ব্যবস্থা আমরা করে দেব।’ গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এর আগে সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আহতদের দেখতে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে যান তিনি। তিনি রোগী, তাদের আত্মীয়-স্বজন ও ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতালে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ভর্তি হওয়া আহতদের সুচিকিত্সার নিশ্চয়তা দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আহতদের প্রত্যেককে দশ হাজার করে টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। একই সঙ্গে তিনি আহতদের শাড়ি এবং লুঙ্গি দিয়েছেন। এছাড়া তাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ সেবা দিতে তিনি ডাক্তারদের নির্দেশ দেন। ভবন ধসের ঘটনায় আহত ৪৮ জন এ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ইকবাল আর্সলান, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল আউয়াল রিজভী প্রমুখ। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমি আহতদের দেখে এসেছি। অনেকের হাত-পা কেটে গেছে। তাদের সার্বিক পুনর্বাসন আমরা করবো। প্রত্যেক পরিবার যাতে মাসে ১০ হাজার করে টাকা পায় সে ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যে গার্মেন্টস মালিকরা রানা প্লাজা ধসে যারা কাজ হারিয়েছেন, তাদের এক হাজার জনকে এ খাতের অন্যান্য কারখানায় চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শ্রমিকদের কল্যাণে বর্তমান সরকারের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এ পর্যন্ত সরকারি সহায়তায় ৪৮ হাজার ৫৭০ জনকে আইনি সহায়তা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তায় ১৯ হাজার ১০টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার প্রক্রিয়াকে স্থায়ীরূপ দিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশেষ ধরনের মামলাসহ অন্যান্য বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১২টি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, একটি ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল, ৬২টি পরিবেশ আদালত, দুটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, তিনটি মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরে আদালতের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে যেমন দু’ভাবে ভাগ করা হয়েছে। তেমনি মহানগর আদালতকে দুই বা চার ভাগে ভাগ করার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় একটি করে স্থায়ী ‘লিগ্যাল এইড অফিস’ স্থাপনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কার্যালয়কে কেবল আইনি সহায়তা কেন্দ্র হিসাবে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। বিচারপ্রার্থী জনগণের কল্যাণে এই অফিসকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কেন্দ্রস্থল হিসাবেও কাজে লাগানোর আগ্রহের কথা বলেন তিনি। সাভারের ধসে পড়া ভবন থেকে উদ্ধার তত্পরতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্ধার কাজে কোনো গাফিলতি নেই। এতো দ্রুত এতো মানুষকে উদ্ধার করার নজির বিশ্বের কোথাও নেই। আমাদের উদ্ধারকর্মীরা মানবতাবোধের জায়গা থেকে এ কাজ করেছেন। উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসার জন্য আমার তাদের ধন্যবাদ জানাই। নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য আমরা সবার সহযোগিতার চাই। সরকারি দলের সঙ্গে গত বুধবার সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজা ভবনের মালিক সোহেল রানার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকলে সবাই সরকারি দল হয়ে যায়। কে কোন দল করলো, সেটা বড় বিষয় নয়। অপরাধী অপরাধীই। সে যে দলেরই হোক সেটা বিবেচ্য নয়। আমরা ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি। ভবন ধসের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তারে সারা দেশে ‘সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী ও বিডিআর বিদ্রোহের বিচার করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনডিপি) প্রতিনিধি নিল ওয়াকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।