ভারী যন্ত্র ব্যবহার শুরু

সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করতে ভারী যন্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়া প্রচলিত পদ্ধতিতে জীবিতদের উদ্ধার কাজ চলছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে প্রথমে ভবনের ওপরের কংক্রিট সরানো হবে। পরে জীবিতদের সন্ধান করা হবে। গতকাল রবিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে একবার ভারী যন্ত্র ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলেও তখন ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। জীবিত ১২ সন্ধান থাকায় তাদের উদ্ধারের জন্য অপেক্ষ করা হয়। এ ১২ জনের মধ্যে সারাদিনে ১০ জন উদ্ধার হলেও ২ জনকে উদ্ধার করতে রাত নেমে আসে। এ দুজনের উদ্ধারের পর ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে উদ্ধারকরীরা জানিয়েছেন। ধ্বংস্তূপ সরাতে হাইড্রোলিক ক্রেন, ডোজার ও লোডারের ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্ট্রাকচারাল ইনজিনিয়ারিং ইউনিট, ফায়ার ব্রিগেড, রেড ক্রিসেন্ট ও কমিউনিটি ভলান্টিয়াররা এই উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসনসহ স্থানীয় অগণিত স্বেচ্ছাসেবী এই উদ্ধার কাজে সহযোগিতা দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বলেন, বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উদ্ধার সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেসব স্তরে প্রাণের অস্তিত্ব আছে, সেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জীবিতদের উদ্ধারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করব। এটা অত্যন্ত কঠিন একটি প্রক্রিয়া। এ জন্য আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ধ্বংসাবশেষগুলো সরানো হবে। এরপর যদি কেউ জীবিত থাকেন, হাইড্রোলিক ক্রেনের সাহায্যে উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধার করবেন।’ উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পর্কে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বলেন, এ ধরনের উদ্ধার কাজ করতে হয় তিনটি পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে’ কাজ হয়। পরের দুটি পর্যায়ে পুরো ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করা হয়। তাছাড়া ধসের চার দিন পর এই অবস্থায় এখনো ‘ম্যানুয়ালি’ কাজ চালিয়ে গেলে ভেতরে আটকে পড়াদের সঙ্গে উদ্ধারকর্মীরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন। এ পর্যায়ে ইকুইপমেন্টের ব্যবহার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘যন্ত্র ও ম্যানুয়ালের সমন্বয় করা হবে। এতে করে জীবিত ও উদ্ধারকারী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত তবে। উদ্ধারকর্ম দ্রুত করা যাবে। সময় কম লাগবে। এ কাজে চারটি দল অংশ নেবে। আমরা বিভিন্নভাবে সবার সহযোগিতা নেব। তিনি বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলছি, এটা জীবিতদের উদ্ধারে যন্ত্রের ব্যবহার। এখানে ভুল বোঝার কোনো অবকাশ নেই।’ ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ জানান, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা জীবিত দুই ব্যক্তিকে খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ভবনের অন্য তলাগুলোতে প্রচলিত পদ্ধতিতে (ম্যানুয়াল) উদ্ধার কাজ বন্ধ আছে। তৃতীয় তলাতেই ওই ব্যক্তিকে প্রচলিত পদ্ধতিতে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তাকে উদ্ধারের পরে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। গতকাল সকাল ৯ টার দিকে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রাতে তা বাস্তবায়ন করা কথা রয়েছে।