সরকারের শেষ ৫০ দিনে চূড়ান্ত আন্দোলনের ছক বিএনপির
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৫
নির্বাচনকালীন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের জন্য হাতে সময় বড় জোর ১২০ দিন—ক্যালেন্ডার ধরে এ রকমই হিসাব কষেছে বিএনপি। এই হিসাব ধরে আন্দোলনের খসড়া রোডম্যাপ তৈরি করেছে দলটি। সে অনুযায়ী সরকারের মেয়াদের শেষ ৩০ থেকে ৫০ দিন সময়কে আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্ব হিসেবে বিবেচনা করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এখন বিচ্ছিন্ন হরতাল ও অবরোধসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালনের পর চূড়ান্ত পর্বে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করবে। গত শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনের ছক সম্পর্কে এ রকম ধারণা দেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৈঠকে উপস্থিত থাকা ১৮ দলের চারজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। তবে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের বাইরে বৈঠকের আলাপ-আলোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমকে কিছু না জানানোর জন্য দল ও জোটের নেতাদের সতর্ক করে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ জন্য ঐ চার নেতার প্রত্যেকেই নাম প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষদিন চলতি বছরের ২৫ অক্টোবর ধরা হলে সে অনুযায়ী আগামী ১ মে থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় থাকে ১৭৭ দিন। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার রয়েছে ৫১ দিন। বাকি থাকে ১২৬ দিন। ঈদসহ অন্যান্য ছুটি বাদ দিলে কর্মদিবস থাকে ১১০ থেকে ১২০ দিন।
১৮ দলীয় জোটের একটি শরিক দলের চেয়ারম্যান গতকাল ইত্তেফাককে জানান, নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে বৈঠকে খালেদা জিয়া বলেছেন ‘তত্ত্বাবধায়ক নামেই হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমাদের মূল কথা হচ্ছে, ওই সরকার অবশ্যই নির্দলীয়, নিরপেক্ষ হতে হবে, সেটি যে নামেই হোক না কেন। অর্থাত্ নির্বাচনের সময় সরকারের ক্যারেক্টার (ধরন) থাকতে হবে নির্দলীয়। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো আপোস নেই।’
এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে ১৮ দলের শরিক এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ইত্তেফাককে বলেন ‘আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে যা বলা হয়েছে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে তেমন কোনো প্রসঙ্গ আসেনি। ৪ মে’র সমাবেশের আগে হয়তো জোটের আরেকটি বৈঠক হবে।’
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে জোটের শরিক দলগুলো থেকে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ সময় জামায়াত থেকে জানানো হয়, একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত তাদের দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রতিক্রিয়া ছাড়া পৃথকভাবে তারা বড় কোনো আন্দোলনে যাবে না। ১৮ দল যেসব কর্মসূচি নেবে, সেগুলোই সফল করার বিষয়ে তারা মনোনিবেশ করবে বলে জোট প্রধান খালেদা জিয়াকে জানান।
শনিবারের বৈঠক সম্পর্কে জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ইত্তেফাককে বলেন, ‘৪ মে’র সমাবেশের আগে সম্ভবত জোটের আরেক দফা বৈঠক হবে। শনিবারের বৈঠকের আলোচনায় বেশিরভাগ সময় জুড়ে ছিল সাভার ট্র্যাজেডি প্রসঙ্গ। বিরোধী দলীয় নেতা নিজের পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, বলেছেন-মানুষের এত কষ্ট, অথচ সরকার আজে-বাজে কথা বলছে।’
উল্লেখ্য, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাভারে ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় আগামীকাল মঙ্গলবার শোক পালন করবে ১৮ দল। ওই দিন শোক র্যালিও বের করবে জোট। ২ মে হরতাল পালন করবে। এছাড়া ৪ মে ঢাকায় বড় সমাবেশ করবে ১৮ দল, যেখানে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখবেন।
এ ব্যাপারে জোটের একজন শীর্ষ নেতা জানান, আলোচনাকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন ‘সরকার যদি হরতাল ও সমাবেশে বাধা দেয়, তাহলে অসহযোগ আন্দোলনের সময় প্রয়োজনে আরও এগিয়ে আনা হবে।’
জোটের একাধিক নেতা জানান, বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু পরবর্তী সময়ে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। এ কারণে শনিবারের বৈঠকে কাউকে মোবাইল সঙ্গে নিতে দেয়া হয়নি।