খুলনা নির্বাহী ম্যাজিসেস্ট্র্রটের অভিযানে ৫০০ বোতল মদ-বিয়ার উদ্ধার
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৯
গতকাল রবিবার সকালে পুলিশ নগরীর প্রাণকেন্দ্র সিমেট্রি রোডের একটি আবাসিক ভবন থেকে ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত শাহজাহানের আড়তে অভিযান চালিয়ে ২২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের প্রায় ৫শ বোতল দেশি-বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করেছে। নগরীর সদর থানার সেকেন্ড অফিসার মানস রঞ্জন দাশ জানান, নগরীর সিমেট্রি রোডের আব্দুল জলিল খান কালামের বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক দ্রব্যের আড়ত গড়ে তুলেছিল শাহজাহান। শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসাটি পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউদ্দীনের নেতৃত্বে ওই গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ২৬৬ ক্যান বিয়ার, ২২১ বোতল দেশি-বিদেশি মদ এবং মদ বিক্রির ১২ হাজার ৮শ’ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে কেরু অ্যান্ড কোং, ভোদকা, হুইস্কি, ভ্যাট ৬৯, স্পিকার লাইনসহ ২৫ প্রকারের দেশি-বিদেশি মদ রয়েছে। এগুলোর আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ টাকা। তবে পুলিশ শাহজাহানকে ধরতে পারেনি।
জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর আবাসিক এলাকাগুলোতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে মাদক দ্রব্যের আড়ত। এসব আড়ত থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশি-বিদেশি মদ, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, ভাং, চরস, তাড়ি, স্পিরিট, প্যাথেডিন, টিডিজেসি ইনজেকশন ও ভায়াগ্রাসহ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট। এসব মাদক দ্রব্যের মূল ক্রেতা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ তরুণ-যুবকরা। এছাড়াও খুলনা মহানগরীর বহু ব্যবসায়ী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও মাদক দ্রব্যের ক্রেতা। মাদক ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের চাহিদা মত নগরীর হোটেলসহ বিভিন্ন জায়গায় দেশি-বিদেশি মদ ও মাদকদ্রব্য পৌঁছে দেয়।
সূত্র জানায়, এর আগে শাহজাহানকে পুলিশ একাধিকবার অবৈধ মদসহ গ্রেফতার করেছে। কিন্তু প্রতিবারই একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই সে আবার মাদক ব্যবসায় নেমে পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর স্টেশন রোডের বার্মাশীল, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট, হেলাতলা, নতুন বাজার চরবস্তি, শিল্পব্যাংক ভবনের পিছনের বস্তি, শেখপাড়া লোহাপট্টি, ময়লাপোতা মোড়, গোবরচাকা, সোনাডাঙ্গা বাস ও ট্রাক টার্মিনাল এলাকা, গল্লামারী, নবপল্লী, খালিশপুর অন্ধ কলোনী, কাশিপুর, বাস্তুহারা কলোনী, দৌলতপুর কাঁচা বাজার, পাবলা, রেলগেট, চিত্রালী বাজার, নয়াবাটি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, মেডিক্যাল কলেজ এলাকা, নিউ মার্কেট এলাকা, বয়রা বাজার, টিবি ক্রসরোড, বৈকালী, বিএল কলেজ রোড ও রূপসা ফেরিঘাটসহ শতাধিক স্পটে চলছে মাদক ব্যবসা । এসব এলাকায় প্রায় হাজার ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫শ’ নারী মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এমনকি শিশুদেরও মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, জনবল সংকটের কারণে তাদের পক্ষে নিয়মিত মনিটরিং করা কষ্টকর। তাছাড়া অনেক সময় অভিযান চালাতে পুলিশ পাওয়া যায় না।
এদিকে গতকাল রবিবার সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের চুকনগর পেট্রোল পাম্পের সামনে একটি প্রাইভেটকারে অভিযান চালিয়ে ৫শ’ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। এ সময় আরোহী সোহরাব (৩৫) ও প্রাইভেটকারের চালক ফরিদকে (২১) গ্রেফতার করা হয়।