বাগমারায় খাল খননে কৃষকের মাঝে আশার সঞ্চার

রাজশাহীর বাগমারার গনিপুর ইউনিয়নের দুই কিলোমিটার খাল খনন করায় আগামী মৌসুমে অতিরিক্ত পাঁচশ’ একর জমিতে আউশ চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খনন করায় বেদখলে থাকা খালটিও দখলমুক্ত হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে গনিপুর ইউনিয়নের সোনাবিলা থেকে বড়বিলা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার খাল কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির অধীনে পুনঃখনন করা হয়। গত ৩১ মার্চ খালটির খনন কাজ শেষ হয়েছে। এজন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বিশেষ ৫০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় গনিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হারুণ অর রশিদ জানান, খালটি দুই যুগ আগে খনন করা হলেও পরে তা ভরাট হয়ে যায়। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এটি দখল করে বোরো চাষাবাদ করে আসছিলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. শামস-ই-তাবরিজ জানান, খালটি পুনঃখননের ফলে আগামী মৌসুমে অতিরিক্ত পাঁচশ’ একর জমিতে আউশ চাষাবাদ করা যাবে। এতোদিন জলাবদ্ধতার কারণে এটা সম্ভব হয়নি। কৃষি প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, খালটি পুনঃখননের ফলে সেখানে অতিরিক্ত পানি ধারণ করা সম্ভব। এজন্য আউশ মৌসুমে বিলের পানি খালে থাকার কারণে উপরের জমিগুলোতে চাষাবাদ করা যাবে। এছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে খালের পানিতে সেচকাজ করা যাবে। কৃষিক্ষেত্রে খালটি আশীর্বাদ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে খালটির প্রায় পুরোটায় এতোদিন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের দখলে ছিল। তারাই খালটি দখল করে সেখানে বোরো চাষাবাদ করে আসছিলেন। খাল খননের ফলে তা দখলমুক্ত হয়েছে। দখলকারীদের মধ্যে আমজাদ, লোকমান ও জাবেদ আলী জানান, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানে চাষাবাদ করে আসছিলেন। তারা দখল না করলেও কেউ না কেউ দখল করত।