রংপুরে শোকের ছায়া
ওয়াদুদ আলী, রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৮
সাভার ট্রাজেডির ঘটনায় রংপুর বিভাগে বেড়েই চলেছে লাশের মিছিল। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। বাড়ি বাড়ি চলছে শোকের মাতম। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। ওই পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য সরকার ও গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ৪০ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রংপুরে ১৮, গাইবান্ধায় ১৭, কুড়িগ্রামে ১ জন এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় ৪ জন রয়েছে। তাদের লাশ নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিক। এদিকে অনেকেই স্বজনদের লাশ না পেয়ে মরিয়া হয়ে ছুটছেন সাভারের হাসপাতালগুলোতে। যাদের এখন পর্যন্ত কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি তাদের মধ্যে রয়েছে রংপুরের মিঠাপুকুরের বড় হযরতপুর ইউনিয়নের মাঝগ্রামের বাতেন মিয়ার স্ত্রী মেঘলা, খোড়াগাছ ইউনিয়নের জারুল্যাবাদ গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে আনজুয়ারা, বদরগঞ্জের ওসমানপুর এলাকার মুন্সীপাড়ার আজাদের স্ত্রী বুলবুলি বেগম, শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনা নূপুর, চৌধুরীপাড়ার জফির উদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, আমজাদ হোসেনের স্ত্রী মনজিলা বেগম, পুত্র আউয়াল, খুটুপাড়ার ইসমাঈল হোসেনের পুত্র কবীর, আবদুর রাজ্জাকের পুত্র আবু সায়েদ, বানিয়াপাড়ার মোকছেদ আলীর পুত্র সাবলু মিয়া, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ী এলাকার চৌকিদারপাড়ার আবু কালামের কন্যা রুবিনা বেগম, রাধানগর ইউনিয়নের দিলালপুর সুতারপাড়ার গুড়াতি পাগলার পুত্র নাসিম মিয়া, পৌর শহরের চাঁদকুঠি এলাকার আবদুর রাজ্জাকের পুত্র আবু সাঈদসহ এসব এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধানী আছেন দুলাহাপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী শাপলা বেগমসহ এসব এলাকার কমপক্ষে ৫০ জন নারী-পুরুষ। কাউনিয়া উপজেলার ৩ সহোদরসহ ৬ জনের কোন সন্ধান মিলছে না। পরিবারের লোকজন জানান, ১ বছর আগে কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণলঙ্কর গ্রামের জাহের আলীর পুত্র দুলাল ও লতিফের পুত্র বাদশা মিয়া এবং বালাপাড়া গ্রামের আজিমুদ্দিনসহসহ বেশকিছু যুবক-যুবতী। কিন্তু বুধবার সাভার ট্রাজেডির পর তারাসহ ৬ জনের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া গাইবান্ধা সদর উপজেলা, সাদুল্লাপুর সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলা এবং কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও জেলায় নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক।
রংপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ জানান, সাভার ট্রাজেডির ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। জেলার সব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সাভারের ঘটনায় আহত-নিহত এবং নিখোঁজদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।