যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে লন্ডনে সমাবেশ

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দাবিতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সমাবেশ করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সমর্থন ফোরাম। বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ৭৩টি সংগঠন এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কয়েকজন এমপি যুদ্ধাপরাধের বিচারে তাদের সমর্থন তুলে ধরে সমাবেশে বক্তৃতা করেন। গত রবিবার পূর্ব লন্ডনের আলতাফ আলী পার্কে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশ থেকে বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা এবং হেফাজতে ইসলামের অপতত্পরতা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট সদস্য ড. চার্লি থন্ক বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোন অপরাধের বিচার হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার বিচারও একইভাবে প্রত্যাশিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে চলমান যুদ্ধাপরাধ বিচারকে তারা সমর্থন করেন। কিন্তু এ বিচারে মৃত্যুদণ্ডের যে দাবি তোলা হচ্ছে সেই দাবির সঙ্গে তারা কোনভাবেই একমত পোষণ করেন না। মানবাধিকার সংগঠন ‘সেন্টার ফর সেক্যুলার পিস’-এর পরিচালক গীতা সাওগাল বলেন, যারা একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন অবশ্যই তাদের বিচার হওয়া উচিত। আবার এ বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বিষয়ে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়, প্রত্যেকের উচিত স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা। গীতা সাওগাল বিদেশে পালিয়ে থাকা অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের দাবি। কিন্তু এ বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য জামায়াত-শিবিরচক্র নানা অপতত্পরতা চালাচ্ছে। তারা নানা কৌশলে দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য হেফাজতে ইসলামের আড়ালে জামায়াত-শিবির ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এ সময় তিনি হেফাজতে ইসলামের অপতত্পরতা বন্ধে এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন শেডো এটর্নি জেনারেল ইজলিংটন সাউথ ও ফ্রিন্সবারী থেকে নির্বাচিত লেবার দলীয় এমপি এ্যামেলী থনবারী, লাইফ অব এমপাওয়ার সারভাইভার অব দি রোয়ান্ডা জেনোসাইডের ডেভিড রাসেল, ইজলিংটন কাউন্সিলের কাউন্সিলার জেমস মেরী, সেন্টার ফর স্যাকুলার পিচের চেয়ারপার্সন ইয়াছমিন রেহমান, সাউথহল ব্লাক সিস্টারের সিকান্ট ড্যানিয়েল, ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি কমরেড স্টিভেন্স জনসন এবং কমরেড লিয়ন সিলভার প্রমুখ।