দুই মামলায় রানা ১৫ দিনের রিমান্ডে

সাভারে ধসে পড়া ভবনের মালিক সোহেল রানাকে দুই মামলায় ১৫ দিন, ইথারটেক গার্মেন্টস মালিক আনিসুর রহমানকে ১২ দিন এবং রানাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগে শাহআলম মিঠু ও অনিল দাসকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের একতরফা শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াসিম শেখ এ আদেশ দেন। গতকাল দুই মামলায় নতুন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মীর শাহীন শাহ পারভেজ রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে দুটি মামলায় ২০ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। একইসঙ্গে ইথারটেক পোশাক কারখা?নার মালিক আনিসুর রহমানকে দুই মামলায় ৭ দিন করে ১৪ দিন ও রানাকে ভারতে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার শাহআলম মিঠু ও অনিলকে শুধু দণ্ডবিধির মামলায় ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদন শুনানির আগে ঢাকা আইনজীবী সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় আসামি রানার পক্ষে কোন আইনজীবী তাকে আইনি সহায়তা দিতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। শুনানির সময় আইনজীবীদের এ সিদ্ধান্তের কথা আদালতকে জানানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা জেলা পিপি খোন্দকার আবদুুল মান্নান ও অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবীর বাবুল রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, পিলারে ফাটল দেখা দিলেও আসামিরা চাকরির ভয় দেখিয়ে জোর করে কারখানায় প্রবেশ করিয়ে গার্মেন্টস কর্মীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। রিমান্ডে নিয়ে বেঁচে আসা শ্রমিকদের সাথে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। তাই আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, রানা প্লাজা ধসের এ ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি নারকীয় হত্যাকাণ্ড। রানা ও অপর আসামিদের পক্ষে একাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত থাকলেও তারা আসামীদের কারো পক্ষে কোন ওকালতনামা দাখিল বা জামিনের আবেদন করেননি। এদিকে আদালতের রিমান্ড আদেশের পর রানাকে আদালত থেকে বের করা হলে উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ রানার ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান দেন। এর আগে এ দুটি মামলায় সাভার পৌরসভার প্রকৌশলী এহতেশাম হোসেন ও সহকারী প্রকৌশলী আলম মিয়া, রানা প্লাজার তিনটি পোশাক কারখানা মালিক বজলুস সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান তাপস ও আমিনুল ইসলামকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রানা প্লাজা ধসে হতাহতের ঘটনায় রানা ও গার্মেন্টস মালিকদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া বা তাচ্ছিল্যপূর্ণ কাজ করে সাধারণ ও গুরুতর জখম ও মৃত্যু ঘটানোসহ ক্ষতিসাধনের অভিযোগে দন্ডবিধি আইনে পুলিশের উপ-পরিদর্শক ওয়ালী আশরাফ খান একটিও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ না করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার হেলাল উদ্দিন সাভার মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে দণ্ডবিধির মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাপ্রচেষ্টার অভিযোগে ৩০৭ ধারাটি যুক্ত করা হয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় শুধু রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা এজাহার নামীয় আসামি। এছাড়া অবহেলাজনিত মৃত্যুসহ অন্যান্য অভিযোগে অপর মামলায় রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা এবং তার বাবা আব্দুল খালেক, নিউ ওয়েভ বাটন গার্মেন্টসের মালিক আনিসুজ্জামান, স্পানিশের মালিক ডেভিড মেয়র রেকো, ফ্যান্টম অ্যাপারেলস ও ট্যাকের মালিক মো. আমিনুল ইসলাম এবং রিমান্ডে যাওয়া নিউ ওয়েভ স্টাইলের মালিক বজলুস সামাদ আদনানকে আসামি করা হয়েছে।