বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যেতে পারে
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৬
সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের (বায়ার) প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী দারুণভাবে প্রচার পেয়েছে। ফলে ক্রেতাদের উপরও কমপ্লায়েন্স (কর্ম পরিবেশ) নিয়ে নতুন নতুন চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তাও নিশ্চিত নয়। এই সব বিবেচনায় বাংলাদেশে তাদের অর্ডার কমে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। গতকাল সোমবার তৈরি পোশাক উত্পাদনকারীদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দের সাথে এক বৈঠকে এ আশঙ্কার কথা জানান তারা। বৈঠকে প্রায় শীর্ষ সব ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ ২৫ জন ক্রেতা প্রতিনিধি অংশ নেন। বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্রেতা প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বৈঠকে রানা প্লাজায় দুর্ঘটনার জন্য প্রকৃত অর্থে কারা দায়ী- সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি ব্যাখ্যা দেয়া উচিত বলে উল্লেখ করা হয়। তারা প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং আরো কী পরিমাণ ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা ভবন রয়েছে তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তারা অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা হয়। এছাড়া বিজিএমইএ’র সদস্যপদ দেয়ার ক্ষেত্রে বা সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বিজিএমইএ কী ধরনের বিষয়াবলী বিবেচনা করে তা জানতে চাওয়া হয়। তারা বলেন, আমরা এখন প্রশ্নের মুখে রয়েছি। বাংলাদেশের কারখানার মানসহ রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রধান অফিসকে জানাতে হয়। এসব বিষয় নিয়ে আমরা খুবই উদ্বেগের মধ্যে আছি। একটি বায়ার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রজার জানান, ভবন ঠিক রয়েছে কি না তা দেখার দায়িত্ব অবশ্য সরকারের, বিজিএমইএ’র নয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম। ইত্তেফাকের সাথে বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনাকালে তিনি বলেন, বায়ারদের প্রতিনিধিরা সাভারের ঘটনা ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের কাছে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছেন। এর ফলে অর্ডার কমে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তারা জানতে চেয়েছেন এই ঘটনার পর আমরা কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছি। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের যথাযথ পুনর্বাসনে আমরা কী করব- তাও জানতে চেয়েছেন। আমরা শ্রমিকদের সহায়তার জন্য তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছি। সভায় আগামী ৭ দিনের মধ্যে বায়ার প্রতিনিধি ও বিজিএমইএ’র সমন্বয়ে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম। এই কমিটি শ্রমিকদের সহায়তার জন্য তহবিল তৈরিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুপারিশ করবে। তবে কমিটির কার্যক্রম কী হবে সেটি আগামী সাত দিনের মধ্যে ঠিক করা হবে। তিনি চলমান সংকট উত্তরণে ক্রেতাদের কাছে সহায়তা চান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি, সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মুর্শেদী, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, টিপু মুন্সী, সাবেক সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ এবং বায়ারদের পক্ষ থেকে জেসি পেনি’র আঞ্চলিক পরিচালক জেনিফা জব্বার, বেস্ট সেলারের সমন্বয়ক রেজাউল হক, সিএন্ডএ’র আঞ্চলিক পরিচালক দিনেশ পেরেরা, গ্যাপ ইনকর্পোরেশনের প্রদীপ কুমার, ইনডিটেক্সের আকলিমা নিপা প্রমুখ ।
কারখানায় ভাঙচুর না করতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান :বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আতিকুল ইসলাম কারখানা খোলা রাখতে শ্রমিকদের সহায়তা কামনা করেন। গতকাল কারখানা খুললেও শ্রমিকদের হামলায় দুপুরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় প্রায় সব কারখানা। বিজিএমইএ সভাপতি শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সহায়তা ছাড়া কারখানা খোলা রাখতে পারব না। বায়াররা চলে যেতে শুরু করলে তাদের ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। এক সময় শ্রীলঙ্কা এভাবে বাজার হারিয়েছিল। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে আগামী ২ তারিখের আহূত হরতাল প্রত্যাহারে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।