রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সমাপনী দিনে আনন্দ ভাগাভাগি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহারের সবুজ চত্বর। ১৯ এপ্রিল শুক্রবার। সকালটা ছিল অন্যদিনের চেয়ে একটু আলাদা। সকালের রৌদ্রচ্ছটা যেন ঝিলমিল করছিল। রং-বেরংয়ের পোশাক পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটে দাঁড়িয়ে ৭০ জন নববিজিত সৈনিক। তারুণ্যের স্রোতে গা এলিয়ে নব রবির পথ ধরে নতুন ঠিকানার খোঁজে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিনটিতে এসে পৌঁছেছে। এ দিনটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সমাপনীর দিন। এদিন সমাপনীদের উন্মাতাল নাচ আর গানের বাজনায় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষাজীবনে এই শেষ আনন্দের দিনটিতে সমাপনী শিক্ষার্থীদের উল্ল¬াস ছিল বাঁধভাঙা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্য হলো প্রত্যেক বছরে নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাপনী উত্সব উদযাপন করা। এর ধারাবাহিকতায় এবারে বঙ্গবন্ধু হলের দুই দিনব্যাপী সমাপনী অনুষ্ঠান শেষ হল শনিবার। সমাপনীদের ভাষায় এটি তাদের জীবনে ঈদ, পূজা, পার্বণ কিংবা বড়দিনের উত্সবের চেয়েও আনন্দের। সমাপনী অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হল ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা। হলের সামনে থেকে এই শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় সমাপনী শিক্ষার্থীরা একই রংয়ের গেঞ্জি পরে শোভাযাত্রায় নাচ আর গানে গোটা ক্যাম্পাস মুখরিত করে রাখে। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড, ইবলিশ চত্বর, টুকিটাকি চত্বর, পশ্চিম পাড়াসহ পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে তাদের হলের সামনে এসে শেষ করে। শোভাযাত্রার পরই শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকে ছবি তোলায়। গ্রুপ কিংবা একাকী ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করে শিক্ষার্থীরা। দেখে যেন মনে হয় শত প্রাণের আবেগে স্বতঃস্ফূর্ত মিলনমেলা। এছাড়া সমাপনীর অনুষ্ঠানের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নতুন মাত্রা যোগ করে। নিজেদের নৃত্য আর গান পরিবেশন করে কৃতিত্ব জাহির করে তারা। নিজেদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথি শিল্পীদের গানে মাতিয়ে তোলে বঙ্গবন্ধু হল। এরপর একসাথে খাওয়া। একই বিভাগের না হলেও ক্যাম্পাসে পদচারণা তাদের এক সাথে। তাই একে অপরের যেন অনেক কাছের বন্ধু হতেও সময় লাগে না। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও সমাপনী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল ম্যাচে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধু হলের সমাপনী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ, আসিক, রাশেদুল ইসলাম রাজু, সানি, মমতাজ, শামসুল আলম বলেন, সমাপনীর মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের সমাপনী বন্ধুদের সাথে যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে তা কখনো ভুলবার নয়। ক্যাম্পাস জীবনে যত মনোমালিন্যই থাকুক না কেন শেষ বেলায় এসে বন্ধুদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা এ অনুষ্ঠান প্রতি বছরই করে থাকে। সমাপনী আরো মজার হত যদি আমার শিক্ষাবর্ষের সব বন্ধুদের নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে সমাপনী করতে পারতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করার অনুরোধ জানান তারা।