র কি ব হো সে ন
টিভি নাটকের নন্দিত অভিনেত্রী তারিন জাহানকে এখন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে দেখা যাচ্ছে। গুণী এই তারকা এগুলো দারুণ উপভোগও করছেন। অভিনেত্রী থেকে রাজনীতির মাঠে নেত্রী হচ্ছেন মনে হচ্ছে? এমন প্রশ্ন করতেই তারিন ভাবনার ডালপালা ছড়িয়ে বললেন, ‘প্রথমত আমি একজন অভিনেত্রী। অভিনয়টা হলো আমার পেশা বা নেশা। আর রাজনীতিটা হচ্ছে আমার ভালোলাগার জায়গা। আমি মনে করি, এ দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষ, রাজনৈতিকভাবেও সচেতন। দেশকে যদি কেউ সত্যিকারভাবে ভালোবেসে থাকে, বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যাঁরা বিশ্বাসী, তাঁরা ডেফিনিটলি একটি দলকে সাপোর্ট করে, আর তা হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সবচেয়ে বড় কথা হলো বিগত দশ বছর দেশের যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থেকেছে, সেটি করে দেখিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশের যে বদনাম ছিল তলাবিহীন ঝুড়ি, পাশাপাশি দুর্নীতির কারণেও আমাদের যে দুর্নাম ছিল, সেই জায়গা থেকেও আমরা অনেক সরে এসেছি।’ একটু দম নিয়ে তারিন আরো বলেন, ‘আমাদের দেশকে সারাবিশ্ব এরইমধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনায় এনেছে। এটাও কিন্তু করে দেখিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। দেশকে যিনি সত্যিকার অর্থে ভালোবাসেন এবং দেশের জন্য যিনি কাজ করে যাচ্ছেন, সেই মানুষটির নেতৃত্বকে আমি শ্রদ্ধা করি। আর সেই মানুষটির সঙ্গে একজন নাগরিক হিসেবে আমি এখন কাজ করতে চাই। এতদিন একজন শিল্পী হিসেবে দেশের জন্য যে কাজটি করা দরকার তা করেছি। তবে সামগ্রিকভাবে যদি কোনো বড় কাজ করতে হয়, তাহলে সেটা সাংগঠনিকভাবে করতে হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে কোনো কাজ করতে হলে অবশ্যই একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। একা কোনো বড় কাজ করা যায় না। সংঘবদ্ধভাবে দলগতভাবে কাজটি আরো সুন্দর করে করা যায়। এই ভাবনা থেকেই আমি মনে করেছি আমাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকেই দেশের জন্য করতে হবে।’ এ দেশে এমনটি প্রায়ই দেখা যায়, একজন শিল্পীর সরাসরি রাজনীতি বা কোনো দলকে সাপোর্ট করা নিয়ে তার ভক্তকুলের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে তারিন বলেন, ‘আমি যখন একজন শিল্পী হিসেবে নাচ, গান ও অভিনয় করি; তখন কিন্তু সেটি ব্যক্তি তারিন হিসেবে করি না। আমি যখন অভিনয় করি, তখন একটি চরিত্রকে নিজের মধ্যে ধারণ করেই প্লে করি। আমার অভিনীত চরিত্রটি কিন্তু ব্যক্তি আমি নই। সেটা আমার জব। আর একজন শিল্পীর ভক্তকুল অবশ্যই থাকবে। তবে আমি যখন কোনো রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করি, সেটা আমার ব্যক্তিগত চয়েজ। এটা কারো ভালো লাগতে পারে, নাও লাগতে পারে। সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। এজন্য তো আমার চয়েজ চেঞ্জ হতে পারে না। আমার ভালোলাগা বা শ্রদ্ধার জায়গাটা ডিফরেন্ট হতে পারে, এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। ব্যক্তি তারিন কোন রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করল কি করল না সেটা একান্তই তার নিজের ব্যাপার। এটা অভিনেত্রী তারিন না। আমি যখন একজন শিল্পী, সেটা আমার একটা গুণ। আর রাজনৈতিকভাবে আমি কোন দলকে পছন্দ করব, আমি আমার শ্রদ্ধার আসনে কাকে বসাব, সেখানে অন্যকারো কিছু বলার বা মতামত দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। আমার রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে যাঁরা রেসপেক্ট করবে, তাঁদের প্রতি আমার ভালোলাগা থাকবে। আসলে ব্যক্তি তারিন ও অভিনেত্রী তারিনের মধ্যে পার্থক্যটা বোঝার ক্ষমতা যাঁদের রয়েছে, যাঁরা সত্যিকার অর্থেই আমার ভক্ত, আমাকে ও আমার কাজকে ভালোবাসেন, তাঁরা অবশ্যই আমার রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিও সম্মান দেখাবেন।’ অভিনেত্রী তারিন এখন রাজনীতির মাঠেও সরব। মাঝে অভিনয় করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি কেড়েছেন, পেয়েছেন তাঁর প্রশংসা। কিন্তু তারিনকে নিয়ে রাজনীতি থেমে নেই। মিডিয়ার অনেকেই গুজব ছড়ান এই বলে যে, তারিন তো এখন কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। রাজনীতি নিয়ে তিনি বেশি ব্যস্ত। অশব্য এই গুজব ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে তারিন বলেন, ‘এই কথাটা ভুল যে আমি অভিনয় কমিয়ে দিয়েছি। আসলে এখন ট্রেন্ডটা চেঞ্জ হয়েছে। আগে যেমন শিল্পীদের কথা চিন্তা করে স্ক্রিপ্ট লেখা হতো ও চরিত্র নির্মাণ করা হতো। এখন সেটা হচ্ছে না। এখন যেমন ওয়েব সিরিজের একটা চল শুরু হয়েছে, ধারাবাহিকের ক্ষেত্রেই অনেক পরিবর্তন এসেছে। এই ধারার কাজে এখন যে গল্প ও চরিত্র তৈরি করা হয়, সেটা আমার ইমেজের সঙ্গে যায় না। আসলে এতদিন দর্শক আমাকে যেভাবে দেখে এসেছেন, সেই ধারাবাহিকতার জায়গাটুকুর পরিবর্তন হয়েছে। আর আমি মনে করি, এতদিন টিভি স্ক্রিনে থাকার পরও আমার খানিকটা অনুপস্থিতি যখন দর্শকের মনে প্রভাব ফেলে, আমাকে সরাসরি দেখলে তাঁরা যখন বলে আপনাকে টিভি নাটকে দেখি না কেন, এটি কিন্তু একটা পজিটিভ দিক। আমার প্রতি তাদের এই ভালোবাসাকে আমি দারুণ প্রাপ্তি বলে মনে করি। কারণ কাউকে অতিরিক্ত টিভি স্ক্রিনে দেখলে মানুষ বিরক্ত হন। ওভার এক্সপোজ কখনোই ভালো দিক না। এই জিনিসটা আমি মেনটেইন করে এসেছি।’ একটু বিরক্তির অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলতে থাকেন তারিন, ‘যাঁরা ছড়াচ্ছে আমি কাজ কমিয়ে দিয়েছি, তাঁদের উদ্দেশ্যটা কী সেটা বুঝতে হবে। আমি একবারও বলিনি কেউ মিডিয়াতে কাজ করলে পলিটিক্স করতে পারবে না, আবার পলিটিক্স করলে মিডিয়াতে কাজ করতে পারবে না। আমি এই ধারণাতে বিশ্বাসী নই। আমাদের সিনিয়র অনেক শিল্পী মিডিয়াতে কাজের পাশাপাশি পলিটিক্সও করে গেছেন সমানতালে। অনেকেই আমাকে বলেছেন, আপু, আপনি কি মিডিয়াতে কাজ করছেন নাকি ছেড়ে দিয়েছেন? এটা শুনে আমি অবাকই হয়েছি। পাশাপাশি তাদের প্রশ্ন করেছি, আমি কি কখনো বলেছি কাজ কমিয়ে দেওয়া বা ছেড়ে দেওয়ার কথা? কারা গুজব ছড়াচ্ছেন, কী কারণে ছড়াচ্ছেন, এটা সবার বুঝতে হবে।’ অভিনেত্রী হিসেবে তারিন অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। তবে তার প্রাপ্তির তালিকায় উজ্জ্বল হয়ে আছে দর্শকদের ভালোবাসা।