বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে ওবামার ওপর বিরোধীদের চাপ
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৮
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বিরোধী দলীয় সিনেটররা। তবে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে আরো বেশি অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল। রবিবার রিপাবলিকান সিনেটরদের দাবির প্রেক্ষিতে হেগেল গণমাধ্যমের কাছে তার সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। বাসার আল আসাদ সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারে, গত সপ্তাহে ওবামা প্রশাসনের এমন মন্তব্যের পর ব্যবস্থা নিতে মার্কিন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে কংগ্রেসের সদস্যরা।
রিপাবলিকান সিনেটররা দাবি করেছেন, সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উচিত। তবে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী পাঠানো উচিত হবে না। রবিবার সিবিএস নিউজ চ্যানেলে ‘জাতির মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সিনেটর জন ম্যাককেইন এসব দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে গ্রাহাম বলেন, সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিগুলোতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে সিরিয়ার বিমান বাহিনীকে উড্ডয়ন থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে। সিরিয়ার আকাশে সরকারি বাহিনীর আধিপত্য খর্ব করে দিলে বিদ্রোহীরা দ্রুত যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারবে।
অপরদিকে সিনেটর ম্যাককেইন বলেন, আমরা প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারি। তিনি সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সিরিয়ায় “আন্তর্জাতিক বাহিনী” সিরিয়া পাঠানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
রবিবার রিপাবলিকান সিনেটরদের এসব দাবি সম্পর্কে মুখ খুলে হেগেল বলেন, সিরিয়ান যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার সম্পর্কে আরো অনুসন্ধান চালানোর কথা ভাবছে আমেরিকা এবং এর মিত্ররা।
সোমবার পেন্টাগনে সাংবাদিকদের হেগেল বলেন, সিরিয়ায় আসলে কী ঘটেছিল তা আমরা এখনো পরিষ্কার না। এ সম্পর্কে আমাদের আরো জানতে হবে। কোথায়, কী পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে সেটা নিশ্চিত না হয়ে ধারণার ওপর কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না। সঠিক ঘটনা না জেনে অনুমানের ওপর কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। সেখানে সামরিক অভিযানের কোন পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের রয়েছে কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে একতরফা কোন সিদ্ধান্ত নিতে চাই না আমরা। এক্ষেত্রে মিত্র দেশগুলোর সাথে বসে ঠিক করা হবে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত সপ্তাহে বলেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে মার্কিন গোয়েন্দারা। সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের দমাতে দুই বার এধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি গোয়েন্দারা। মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দাবি করেন, ঐ দুটি ঘটনায় ফসফরাসধর্মী শারিন নামক এক ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
গত মার্চে আলেপ্পো প্রদেশে এধরনের এক হামলায় ৩১জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাসায়নিক অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
সিরিয়ার সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং দেশটির কিছু অঞ্চলকে নো ফ্লাই জোন হিসাবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছে তারা।