পোশাক খাতে মানবিক বিপর্যয় কি চলতেই থাকবে?

মানবিক বিপর্যয়ের কোনো ভাষা জানা নেই। সাভারে ভবন ধসে যে বিপর্যয় চোখে পড়ে তা নজিরবিহীন বলা চলে। ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। বাতাসে লাশের গন্ধ ভেসে আসছে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো যাচ্ছে না। গরিব শ্রমিকরা পুড়ে মারা যাচ্ছে। ভবন ধসে মারা যাছে। একশ্রেণির মালিকের স্বেচ্ছাচারিতায় মরছে। ক্ষুধায় কাতর হয়ে মরছে। তাদের করুণ আর্তি শোনার মতো যেন কারো কোনো সময় নেই। অভাবের তাড়নায় তাদের অনেক ক্ষেত্রে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। যে বেতন দেওয়া হয় তা দিয়ে কোনো মতে চলাও যেন দায়। তারপরও বাধ্য হয় স্বল্প বেতনে কাজ করতে। সে মানুষগুলোকে আজ জীবন্ত কংক্রিটের মধ্যে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হচ্ছে। হায় রে নিয়তি, হায় রে মুনাফা! সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে— বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্য অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। কিন্তু সাভারের ঘটনার দিকে তাকালে পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। বড় বড় যন্ত্রপাতির পাশাপাশি ছোট অনেক যন্ত্রের প্রয়োজন পড়ে সেগুলো কেন পর্যাপ্ত পরিমাণে সংগ্রহ করা হয়নি? পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে উদ্ধারকারীদের পলে পলে বেগ পেতে হয়েছে। একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতেই রাষ্ট্রকে গলদঘর্ম হতে হয়েছে। যদি ভূমিকম্পের মতো কোনো মহাবিপর্যয় দেখা দেয় তখন পরিস্থিতি কী করে মোকাবেলা করা হবে সেটি এখনই ভাবতে হবে। সবচেয়ে বেশি যে সংকট তৈরি হয়েছে তা হলো প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের অভাব। ধ্বংসস্তূপ থেকে কোন্ পদ্ধতিতে এবং কীভাবে জানমালের ক্ষতি না করে নিরাপদে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা যাবে? এ ক্ষেত্রে উদ্ধার কাজ আরো সহজ হতো প্রশিক্ষিত উদ্ধার কর্মী থাকলে। সরকারের উদ্ধার কর্মীদের এখনই প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। বিশাল এক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য দেশে উদ্ধার কাজে তাদের পাঠাতে হবে। সে অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক বেশি প্রয়োজন। অনেক উদ্ধার কর্মী একাধারে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে যে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে তা হলো প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম। যে বিপর্যয় সাভারে ঘটে গেলো তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। মুনাফালোভীরা তাদের অতিরিক্ত মুনাফা করতে গিয়ে গরিব মানুষগুলোকে লাশে পরিণত করলো তার কি কোনো বিচার হবে? অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে তা মনে হয় না। আগের তাজরিন গার্মেন্টসের ঘটনায় মালিকের কি কোনো বিচার হয়েছে? না, হয়নি। এ ঘটনারও কোনো সুবিচার হবে কিনা কে জানে? হতভাগ্য মানুষগুলোকে এভাবেই মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতায় মৃত্যুবরণ করতে হবে। কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না তা যেন এখন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত শত মানুষ মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিলেও কেন গার্মেন্টস সেক্টরের অবস্থার কোনো উন্নতি হবে না? সে প্রশ্ন এখন দেশের মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে যে জিএসপি সুবিধা দিয়ে আসছে তা এখন বাতিলের জন্য পাকাপোক্ত হলো। কোন্ মুখে এখন বাংলাদেশ সরকার জিএসপি সুবিধা চাইবে? নারায়ণগঞ্জ