তোর লাশ যে আমার বয়সের চেয়েও ভারি

সাভারের ভবন ধসে নিহত গার্মেন্টস শ্রমিক যশোরের অভয়নগর উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের ইসরাইল হোসেন বিশ্বাসের লাশ মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় শতবর্ষী পিতা নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস বুক চাপড়ে বিলাপ করেন ‘আমিও তোর সাথে কবরে যাবো বাজান। তোর লাশ যে আমার বয়সের চেয়েও ভারি।’ সাত ভাই তিন বোনের মধ্যে ইসরাইল ছিলেন দ্বিতীয়। গরিব কৃষক পিতার পক্ষে ১২ সদস্যের সংসার চালানো সম্ভব ছিল না। ১৯৭৮ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকায় ছুটে যান ইসরাইল বিশ্বাস। কাজ নেন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে। সামান্য শ্রমিক থেকে কঠোর পরিশ্রম ও কর্মগুণে দায়িত্ব পান স্টোর কিপারের। কাজ করতেন রানা প্লাজার ৬ষ্ঠ তলায়। বাস করতেন সাভারের গ্যান্ডা এলাকায়। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করার স্বপ্নে বিভোর ইসরাইল বিশ্বাস রাতদিন পরিশ্রম করতেন। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন স্ত্রী রোকেয়া বেগম। বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। বিলাপ করতে করতে রোকেয়া বেগম বলেন, ‘ওরা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। ওই দিন আমার স্বামী কাজে যেতে চাইনি। মালিকের লোকজন তাকে মোবাইলে ধমক দিলে সে কাজে যেয়ে আর ফিরে আসেনি।’