বরিশালে মেয়র নির্বাচনের জন্য মাঠে আওয়ামী লীগ
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০১
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরই মাঠে নেমে পড়েছেন শাসক দল আওয়ামী লীগের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান মেয়র শওকত হোসেন হিরন বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আজ বুধবার তিনি বরিশালে ফিরে শ্রমিক লীগ আয়োজিত মে দিবসের বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নিয়ে বড় ধরনের নির্বাচনী শো-ডাউন করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। যদিও মেয়র হিরন তা অস্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেন, এটা কোন নির্বাচনী শো-ডাউনের প্রস্তুতি নয়। দলীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় তিনি নামবেন বলে জানান। দলের অপর সম্ভাব্য প্রার্থী যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন তফসিল ঘোষণার পর পরই সোমবার রাতে লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে শুরু করেছেন। বিএনপি দলীয় বর্তমান কাউন্সিলরদের পাশাপাশি নতুন মুখের কাউন্সিলর প্রার্থীরা মাঠে নামলেও এখনো দলীয় সিদ্ধান্ত না হওয়ায় মাঠে নামতে পারছেন না মেয়র প্রার্থীরা। তবে তফসিল ঘোষণার পর ৪ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি দলীয় প্রায় হাফ ডজন মেয়র মনে করছেন, বিএনপির এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা উচিত। এ তথ্য জানিয়ে বরিশালের সাবেক মেয়র মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ার এমপি ইত্তেফাককে জানান, সরকার আন্দোলনকে বানচাল করতে কৌশলে ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘোষণা করেছে। ঢাকা সিটি কর্পোরশনে নির্বাচন না দিয়ে ৪ টি সিটি কর্পোরশনের নির্বাচন ঘোষষা দিয়েছে রাজনৈতিক কৌশল হিসাবে। তাই এ কৌশল রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলার জন্য বিএনপির নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা উচিত্ বলে মজিবুর রহমান সরোয়ার জানান। তিনি ইত্তেফাককে জানান, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ ৪ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সিংহভাগই মনে করেন, আন্দোলনের পাশাপাশি এ নির্বাচনে তাদের অংশ নেয়া উচিত। তারা খুব শিঘ্রই দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করে তাকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করবেন। দলের চেয়ারপার্সন রাজি হলে সরোয়ার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী। একই কথা জানিয়েছেন বিএনপি দলীয় সাবেক অপর মেয়র জেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব কামাল। তিনিও মনে করেন, সিটি কর্পোরশন নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহণ করা উচিত। দলের কাছে তিনিও মেয়র পদে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান।
তফসিল ঘোষণার পর পরই জোরে সোরে মাঠে নেমেছেন ৩০ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা কেউ কেউ নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্ব-স্ব ওয়ার্ডের ভোটার তালিকা সংগ্রহের জন্য গত দু’দিন ধর্না দিয়েছেন। কিন্ত জেলা নির্বাচন অফিসে এখনো কোন ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশন থেকে আসেনি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার কোন প্রার্থীকে ভোটার তালিকা দেয়া হবে না। প্রত্যেক প্রার্থীকে ভোটার তালিকার সিডি বাধ্যতামূলক ক্রয় করতে হবে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে ঐ সিডি তৈরির কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। গত সিটি নির্বাচনে ভোটার ছিল এক লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৩ জন। এবার ৩১ হাজার ১৯০ জন ভোটার বৃদ্ধির প্রাথমিক তথ্য রয়েছে জেলা নির্বাচন অফিসের হাতে। তবে এ তালিকা চূড়ান্ত নয় বলে জেলা নির্বাচন অফিসার জানান। তিনি বলেন, খানা রদ বদলের কারণে আরো কিছু ভোটার বৃদ্ধি পাবে বলে তাদের কাছে খবর রয়েছে। সিডি হাতে পেলেই চূড়ান্তভাবে ভোটার সংখ্যা বলা যাবে। সিডির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ভোটার অনুযায়ী। সে ক্ষেত্রে মেয়র প্রার্থীদের সিডি ক্রয় করতে হবে কমপক্ষে সাড়ে ১৬ হাজার টাকায়। কাউন্সিলর প্রার্থীদের ১৫শ থেকে ২৫শ টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে নির্বাচন অফিস থেকে এ সিডি ক্রয় করতে হবে বলে নির্বাচন অফিসারগণ জানান। সিডি ক্রয় না করে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।