চট্টগ্রামে জরাজীর্ণ ৩ স্কুল ভবন ভাঙার নির্দেশ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত তিনটি বিদ্যালয় ভবনের একটির অংশবিশেষ ও অপর দু’টি জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সম্পূর্ণ জরুরি ভিত্তিতে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যবহার অনুপযোগী ভবনগুলো হচ্ছে: জামালখান কুসুম কুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের অংশবিশেষ এবং কদম মোবারক সিটি কর্পোরেশন বালক ও বাগমণিরাম সিরাজা খাতুন সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরো অংশ। সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত এ তিনটি স্কুল ভবন ভেঙে ফেলার জন্য এ বছর জানুয়ারিতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ভবনগুলো এতদিন ভাঙা হয়নি। এসব ভবনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়ালেখা করে আসছিল। সাভার ট্রাজেডির পরদিন কুসুমকুমারী স্কুলের ছাত্রীরা আতঙ্কে ক্লাস রুম ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসার পর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। গতকাল মঙ্গলবার সিটি মেয়র এম মনজুর আলম এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তাগিদ দেন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ ও নির্মাণাধীন ভবনের মান নির্ণয়ে ভ্রাম্যমান টিম গঠন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। গত দু’দিনে এ টিম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কয়েকটি ভবন সিলগালা এবং মালিকদের জরিমানা করে। নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, শান্তিবাগ আবাসিক এলাকা ও ছোটপুল ব্রিকফিল্ড এলাকায় অভিযানকালে ইমারত নির্মাণ আইন লংঘন করে ইমারত নির্মাণ করায় মোহাম্মদ আবুল বশরের মালিকানাধীন নির্মাণাধীন ৭ তলা ভবন ও মোহাম্মদ সিরাজ হোসেন ও মোহাম্মদ মিরাজ হোসাইন এর নির্মাণাধীন ৮ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধের আদেশ দিয়ে সিলগালা করা হয়। এছাড়া ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে সারেন্ডার ল্যান্ড পুনর্দখল করে নির্মাণ কাজ করার জন্য ভেনচার ডেভেলাপারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে সারেন্ডার ল্যান্ড ছাড়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। আইনের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ইমারত নির্মাণ করায় মোহাম্মদ এয়াছিন ও মাহাবুব আলমকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয় এবং তাদেরকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ব্যতিক্রমী অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ প্রদান করা হয়।