গার্মেন্টস খাতকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে

সাভারে ভবন ধসে পোশাক শ্রমিক হতাহতের ঘটনাকে উপলক্ষ করে একটি চক্র পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শোকের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে একটি পক্ষ। ফলে আজও (মঙ্গলবার) সাভার-আশুলিয়ার কিছু এলাকায় গার্মেন্টস কারখানায় কাজ হয়নি।’ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আতিকুল ইসলাম বলেছেন, সাভার ট্রাজেডির কারণে কারখানা বন্ধ থাকায় অনেক পোশাক কারখানাই সময়মতো পণ্য শিপমেন্ট করতে পারবে না। ফলে অর্ডার বাতিল করে দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। ব্রিফিংকালে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ বিজিএমইএ’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিকদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, পোশাক কারখানার ভবনগুলোর কাঠামোগত নকশা ও ভার বহন ক্ষমতা নিয়ে বিজিএমইএ, বুয়েট এবং রাজউক যৌথভাবে জরিপ করবে। এ ব্যাপারে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে। এদিকে সাভারের ঘটনায় আহত শ্রমিকদের প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম বলেন, আহত শ্রমিকদের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ চিকিত্সা দেয়া হবে। ইতিমধ্যে উন্নত চিকিত্সার জন্য কয়েকজনকে অ্যাপোলো ও স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহতদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিষয়ে সিআরপির সিস্টার ভ্যালোরি টেইলরের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। সিআরপি, বিজিএমইএ ও কিছু এনজিও’র যৌথ উদ্যোগে গুরুতর আহত শ্রমিকদের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজটি করা হচ্ছে। আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, সাভার ট্রাজিডিকে কেন্দ্র করে অনেকেই ঠিকভাবে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী যে ইমেজ সঙ্কট হয়েছে তাতে আগামী মৌসুমে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের পোশাকের অর্ডার ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হবে। যা দেশের মোট রফতানিতেও প্রভাব ফেলবে। মানবতার স্বার্থে হরতাল স্থগিত করায় বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় এই ট্রাজেডির সময়ে হরতাল প্রত্যাহার করায় আমাদের জাতীয় ঐক্য ত্বরান্বিত হবে। তারা প্রমাণ করলেন তারা দেশের মানুষের কল্যাণেই রাজনীতি করেন। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে জাতিকে যে কোন সঙ্কটে ঐক্যবদ্ধ থাকতে অনুপ্রাণিত করবে।