আজ মহান মে দিবস
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৫
আজ পহেলা মে, মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশের এক ঐতিহাসিক গৌরবময় দিন। আজ থেকে ১২৭ বছর আগে ১৮৮৬ সালের পহেলা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটে শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করে শ্রমিকরা। এতে প্রায় ৩ লাখ মেহনতি মানুষ অংশ নেয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের রুখতে মিছিলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। দাবি আদায়ের জন্য সেদিন শ্রমিকদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল শিকাগোর রাজপথ। আন্দোলনে অংশ নেয়ার অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় গ্রেফতারকৃত ৬ শ্রমিককে। কারাগারে বন্দিদশায় এক শ্রমিক নেতা আত্মহননও করেন।
শ্রমিকদের এই আত্মত্যাগ ও রক্তস্নাত ঘটনার মধ্যদিয়ে দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ঐতিহাসিক বিজয় হয়। শ্রমিকদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই সেদিন মালিকরা স্বীকার করে নিয়েছিল শ্রমিকরাও মানুষ। তারা যন্ত্র নয়, তাদেরও বিশ্রাম ও বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৮৯ সালে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে দিবসটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে বিশ্বব্যাপী দিনটি মহান মে দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের সকল দেশেই আজ পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশেও ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। সংবাদপত্র অফিসও বন্ধ থাকবে। মে দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। বেতারসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার হচ্ছে। মে দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বিশ্বের শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের সাথে ঐক্য ও সংহতি প্রকাশ করে বলেন, একটি দেশের উত্পাদন, উন্নয়ন ও সামগ্রিক অগ্রগতিতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিপুল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মহান মে দিবস পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মেহনতি মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন বঞ্চিত, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে আমরা দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে ঐক্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। জাতীয় শিশু শ্রমনীতি ২০১০ এবং জাতীয় শ্রমনীতি ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার সরকার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহার এবং উন্নত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রূপকল্প ২০২১ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।
মহান মে দিবস উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, মে দিবসের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে বিশ্বের কোথাও কোথাও যেমন সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও শোষণ বঞ্চনা বহুলাংশে দূরীভূত হয়েছে আবার বিভিন্ন স্থানে নিপীড়িত শ্রমিকরা আজো তাদের ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে বাংলাদেশে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের শাসনামলে মে দিবসের মূল চেতনা অধিকার প্রতিষ্ঠার ন্যায্য সংগ্রামকে যেভাবে দমন ও ভুলুণ্ঠিত করা হচ্ছে তাতে এবারের মে দিবসে আমি উদ্বেগ প্রকাশ না করে পারছি না।
শ্রমিকদের প্রতি জেপি’র শুভেচ্ছা
মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বের মেহনতি মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, এ বছর সাভারের ভবন ধসে প্রায় ৪শ’ শ্রমিকের মৃত্যু এবং অসংখ্য শ্রমিকের আহত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে মে দিবস পালন বিশেষ তাত্পর্য বহন করে। এবারের মে দিবসে তাই শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের অন্যান্য অধিকারের সঙ্গে তাদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসতে হবে। মেহনতি মানুষের কর্মস্থলে তার জীবনের ঝুঁকি যাতে না থাকে সংশ্লিষ্ট সকলকে তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার এবং একই সঙ্গে নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ ও মাতৃকালীন ছুটির বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় আনতে হবে। বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের মালিক, শ্রমিক এবং সরকার এক যোগে কাজ করলে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং উত্পাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম হবে।