রানার আশ্রয়দাতা গ্রেফতার

রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করার অভিযোগে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ওরফে হাসানকে (৪০) গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ভবন ধসের পর তার বাসায় রানা আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে হাসান রানাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার বিনিময়ে তাদের মধ্যে টাকা লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন। এ টাকার ভাগ তার পরিচিত দুই তরুণীসহ আর কয়েকজনের পকেটে গিয়েছে। তারা ঢাকার বাইরে রয়েছে বলে সে জানিয়েছে। র্যাবের পক্ষ থেকে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলেছে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, রানা প্লাজা ধসের পর গত রবিবার ইত্তেফাকে রানাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার বিনিময়ে ৭০ লাখ টাকার লেনদেন হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়। হাসান গ্রেফতারের পর সেই তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেল। ভবন ধসের ঘটনা তদন্তকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা রানাকে সীমান্ত পার করে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই টাকা বিলি-বণ্টন হয়। ৭০ লাখ টাকা বেশ কয়েকজনের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে। রানার এক গডফাদার এ কাজটি সমন্বয় করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। সাভারের এক আওয়ামী লীগ নেতা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘রানা গ্রেফতার হলে ওই গডফাদারের সকল অপকর্ম প্রকাশ হয়ে যাবে। এ কারণে রানাকে তাদের নেটওয়ার্কের মধ্যেই নিরাপদে রাখা হয়। রানা ধরা পড়ে যাবে-এটা বুঝতে পারলে তারা রানাকে আগেই গুম করে দিতো।’ গ্রেফতারকৃত হাসান একজন ক্লিয়ারিং-ফরোয়ার্ডিং ব্যবসায়ী (সিএন্ডএফ এজেন্ট) বলে জানা গেছে। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলা সদরে। সেখানে তার বিলাস বহুল বাড়ি রয়েছে। পলাতক দুই তরুণী স্ত্রী ও বোন হিসেবে রানার সঙ্গে ছিলেন। তারা বেনাপোল পর্যন্ত গিয়েছিলেন। এদিকে হাসানের আয়ের সঙ্গে সম্পদের অনেক ব্যবধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তিনি জানান, হাসান কোটি কোটি টাকার মালিক আর বিলাস বহুল জীবন যাপনে অভ্যস্ত। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অনুসন্ধান করে দেখেছেন যে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। তবে রানার সঙ্গে হাসানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দীর্ঘদিন। রানার কোটি কোটি টাকার মাদক ব্যবসার সঙ্গে হাসান জড়িত। সীমান্ত থেকে বস্তায় বস্তায় ফেনসিডিল আনার মূল দায়িত্ব পালন করে সে। ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, হাসানের বাড়ি সদর উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামে। তার পিতা খলিল বিশ্বাস এক সময় সরিষার তেল ভাঙ্গিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিক্রি করতেন। এলাকায় ‘কলু খলিল’ হিসেবে তিনি পরিচিত। জেলা সদরের কানাইপুর বাজারে শতাধিক দোকানের মালিক হাসান। ইট ভাটা, তেল-ডালের মিলসহ তার রয়েছে কোটি টাকার সম্পত্তি। এলাকায় এ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। হাসানের কাছে আলাদিনের চেরাগ রয়েছে- এমন মন্তব্যও করেছেন অনেকে।