ইত্তেফাক রিপোর্ট
এখন থেকে সব ধরনের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণ পাবে। সমপ্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে রপ্তানিকারকদের এ সুবিধার কথা জানিয়েছে। এতদিন রপ্তানি আদেশের বিপরীতে উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে কাঁচামাল আমদানি এবং বড় আকারের আমদানির জন্য এ ঋণ পেয়ে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রপ্তানি সমপ্রসারণের জন্য ইডিএফ সুবিধাও সমপ্রসারিত করা হচ্ছে। এখন থেকে সব রপ্তানিকারক, যাদের রপ্তানির জন্য আমদানি করতে হয়, তারা এ ঋণ পাবেন।
ঋণের পরিমাণ হবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের ১২ মাসের রপ্তানি আয় অথবা পাঁচ লাখ ডলারের মধ্যে যেটি কম। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থায় ইডিএফ থেকে ঋণ পাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, এত দিন বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন করে ইডিএফ থেকে ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান রপ্তানি নীতিতে (২০১৮-২১) সব খাতের রপ্তানিকারকদের ইডিএফ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যে কারণে অপ্রচলিত খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য এ সুবিধা কার্যকর হলো। ছোট রপ্তানিকারকরা এখন থেকে কাঁচামাল আমদানির জন্য এ ঋণ পাবেন।
আগে থেকে বিজিএমইএ, বিটিএমএ, বিকেএমইএর সদস্যসহ পাস্টিক, চামড়া, ওষুধ, সিরামিক ও অ্যাক্সেসরিজ পণ্যের রপ্তানিকারকরা এ সুবিধা পেয়ে আসছে। বিজিএমইএ ও বিটিএমএর সদস্যরা এ তহবিল থেকে আড়াই কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ পান এবং অন্যান্য খাতের সদস্যরা পান দেড় কোটি ডলার। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের পরিমাণ ৫০ কোটি ডলার বাড়িয়ে ৩৫০ কোটি ডলার করেছে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক এই ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি পোশাকসহ সব খাতের রপ্তানিকারকদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ তহবিলের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে ওই সময় জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রপ্তানি খাতে সহায়তা দিতে ১৯৮৯ সালে মাত্র তিন কোটি ডলার দিয়ে ইডিএফের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে লাইবরের (লন্ডন ইন্টারব্যাংক অফার রেট) সঙ্গে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ যোগ করে ইডিএফের সুদের হার নির্ধারণ করা হচ্ছে।