আয়ারল্যান্ডে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরেছিল আয়ারল্যান্ড উলভসের কাছে। তবে, ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হতে না হতেই দলটা যেন আমূল বদলে গেল। ব্যাটে-বলে অনন্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আট উইকেটের বড় জয় পেল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
বড় হয়ে দলে এখন আত্মবিশ্বাসের কোনো কমতি নেই। তাই আজ দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচ শেষে বিডিনিউজকে সৌম্য সরকার বলেন, ‘অবশ্যই জয় তো সব সময় সবাইকে আত্মবিশ্বাসী করে। আমরা সবাই এখন আত্মবিশ্বাসী। আর কন্ডিশন তো আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। এটা নিয়ে চিন্তা না করে সবাই সবার সেরাটা দিয়ে যতটুকু এগোনো যায়।’
বাংলাদেশের তীব্র গরম থেকে আয়ারল্যান্ডে গিয়ে ঠান্ডায় বেশ ভুগছে বাংলাদেশ দল। অনেক প্রস্তুতির পরও ঠান্ডায় কাবু হয়ে যাওয়ার শঙ্কা কাজ করছিল। তবে কন্ডিশনের সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছে তারা। মাঠে দেখা গেছে চনমনে এক দলকে। যদিও, গতকাল একদমই অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশ। কারণ, আজ ডাবলিনে সারাদিনই বৃষ্টি হয়েছে।
৬৭ বলে ৭৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন সৌম্য। ৮০ রান করা তামিম ইকবালের সঙ্গে তার ১৪৪ রানের জুটিরও বড় অবদান ছিল জয়ে। বড় অবদান রেখেছেন সাকিব আল হাসানও। মিতব্যয়ী বোলিংয়ে ১০ ওভারে কেবল ৩৩ রানে নিয়েছেন এক উইকেট। সীমানায় দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ নিয়েছেন। পরে ব্যাট হাতে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে ফিরেছেন।
ম্যাচ শেষে সৌম্য জানালেন, সাকিবকে নিয়ে বাইরে আলোচনা থাকলেও বিশ্বাস ছিল দলের। বললেন, ‘আমাদের দলের ভেতর কোনো সংশয় নেই উনাকে নিয়ে। বাইরের কথা কে কি বলে, এসব আমরা জানি না। আমাদের বিশ্বাস আছে উনার ওপর। উনি বিশ্বাস রাখার মতোই খেলেছেন।’
সমালোচনা স্বয়ং সৌম্যকেও কম হজম করতে হয় না। তবে বরাবরই সেসব গায়ে মাখেন না বাঁহাতি এই ওপেনার। বললেন, ‘নেতিবাচক কথা যদি কারো বলে ভালো লাগে, তাহলে সে খুশি হয়। আমার তো অবশ্যই শুনতে খারাপই লাগে। চেষ্টা করি ওসব এড়িয়ে চলতে। নিজের ইতিবাচক দিকগুলো মাথায় রাখতে।’
প্রথম ম্যাচের প্রসঙ্গে সৌম্য জানান, স্বভাবত ব্যাটিংয়েই জয়টা সহজ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটা সময় মনে হচ্ছিল তিনশ রান তাড়া করতে হবে। পরে খেলাটা ধরতে পারি আমরা। ২৬০ রানে আটকে রাখি। এরপর টার্গেট ছিল স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং করা। উইকেট খুব সহজ ছিল না ব্যাটিংয়ের জন্য। শট অতটা খেলা যাচ্ছিল না। পেছনের বলগুলো খেলা যাচ্ছিল, সামনের বলগুলো অতটা নয়। পরিকল্পনা ছিল যে জুটি গড়তে হবে, তাহলে খেলা আমাদের হাতে আসবে। সেটিই হয়েছে।’
তামিম খেলেছিলেন একটু আস্তে ধীরে। তাই রানের চাকা সচল রাখতে হয়েছে সৌম্যকেই। নিজের এই ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন হয়নি যে তামিম ভাই রান করছিল না বলে আমরা আটকে পড়ছিলাম। কোনো চাপ আসেনি। তিনি আমাকে বলছিলেন যে, ‘তুই তোর নরম্যাল খেলা খেল। একটা সময় ম্যাচ আমাদের হাতে চলে আসবে।’ তখন আমিও তাকে বলছিলাম যে, ‘আপনার খেলা ঠিক আছে, একটা ওভার ভালো গেলেই আপনি পরে রান কাভার করে ফেলতে পারবেন।’ এসব নিয়েই কথা হচ্ছিল। দুজনই দুজনকে বলছিলাম যে জোরাজুরি করা যাবে না।’