স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের টেকনাফ বাজারে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রমজান মাসকে পুঁজি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ও দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায় টেকনাফের বাজারসমূহে সরকার নির্ধারিত দামের পরিবর্তে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে বলে ভূক্তভোগী মহল থেকে অভিযোগ উঠছে।
৭-৮ মে টেকনাফের বাজারসমূহে মাছ, তরকারি এবং মুদির দোকান ঘুরে দেখা যায়, আলু, পিঁয়াজ, করলা, কাঁচা মরিচ, টমেটো ও শসার দাম প্রতিকেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। পোল্ট্রি ফার্মের মুরগীর দামও আগের চেয়ে ১৫-২০ টাকা কেজিতে বৃদ্ধি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন গরুর মাংস ৫শ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও তা না মেনে ৬শ থেকে ৭শ টাকায় বিক্রি করছে মাংস ব্যবসায়ীরা।
বাজারে কাঁচা মরিচ ও শসার দাম বেশি বেড়েছে। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি করছে ৮০ টাকা থেকে ১শ টাকা আর শসা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। বেগুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০, করলা ৮০, পটল ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০, ঝিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কোরাল মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭শ থেকে ৭৫০ টাকা, রূপচাঁদা জাত ও আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬শ থেকে ৮শ টাকা, তেলাপিয়া প্রতিকেজি ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা, রুই মাছ প্রতিকেজি সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা, কাতলা ২৯০ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা, পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২শ টাকা।
বাজারের মাছ বিক্রেতারা জানান, সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কম। তাই বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব মাছ। তবে মিঠা পানির মাছ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
শিক্ষক নুরুল আলম আজাদ, মানবাধিকার কর্মী এইচএন আমান জানান, ৬-৭শ টাকার নিচে হ্নীলা-হোয়াইক্যংয়ে মাংস বিক্রি হয় না। এখানকার কসাইরা সন্ধ্যার আগে পরেও গরু জবাই করে ইচ্ছামতো টাকা হাতিয়ে নেয়।
হ্নীলা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহির আহমদ বলেন, পবিত্র রমজান মাসে হঠাত্ করে দ্রব্যমূল্যের এমন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষকে অনেকটা বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করছেন না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্দেশনা না মেনে তারা ইচ্ছামতো দাম হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি বাজার মনিটরিং না করায় মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা মূল্য তালিকা না ঝুলিয়ে সুযোগ বুঝে নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকিয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছে। তিনি বলেন, তাদের নির্ধারিত দামে পণ্য কিনতে স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজারে গত সপ্তাহের চেয়ে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা বাজার মনিটরিং কমিটির সভাপতি মো. রবিউল হাসান জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে রমজানের আগে একটি সভা করা হয়। সভায় মাংসের দাম নির্ধারণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি নিয়মিত বাজার মনিটরিং রাখবেন বলে জানান।