পেকুয়ায় পাহাড় কেটে চলছে মাটি বিক্রি

পাহাড়ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা

চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার একাধিক পাহাড়ি এলাকায় একটি অসাধু চক্রের নেতৃত্বে চলছে নির্বিচারে পাহাড় কাটা। পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি অব্যাহত থাকায় উপজেলায় আশঙ্কাজনকভাবে কমছে পাহাড়-টিলার সংখ্যা। এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র ও পরিবেশ। অপরদিকে, এসব পাহাড়ে বসতি গড়ে তুলেছে স্থানীয় কিছু লোক। ফলে বর্ষামৌসুমে কাটা পাহাড় ধসে বড় ধরনের প্রাণহাণির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলার পাহাড়ি জনপদের কয়েকটি ইউনিয়নে প্রকাশ্যে চলছে পাহাড় কাটা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের এতিমখানা এলাকায় মাটি কাটার যন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। পাহাড়ি এসব মাটি পাঁচটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। এভাবে উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে দিনে-দুপুরে পাহাড় কাটা অব্যাহত আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিলখালী এতিমখানা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, উপজেলার একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র শিলখালী ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনভূমির পাহাড়গুলো কেটে সাবাড় করছে। অভিযুক্ত সিন্ডিকেটটি পাহাড় কাটার পাশাপাশি গাছ কেটে উজাড় করছে বনভূমি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবউল করিম বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। তারপরেও আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। পাহাড় কাটায় জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কামরুল হাসান বলেন, পাহাড় কেটে মাটি লুটের ঘটনায় আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তারপরও এখন যেহেতু ঘটনাটি জেনেছি, অবশ্যই পেকুয়ায় পাহাড় নিধনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।