ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা
বর্ষায় পানি ও কাঁদামাটিতে আর খরায় থাকে ধুলায় একাকার। এই চিত্র গৌরনদী উপজেলার সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড-সরিকল সড়কের। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানের পিচ খোয়া উঠে খানাখন্দ হয়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বিভিন্ন গাড়ির চালক ও যাত্রীরা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদীসহ পার্শ্ববর্তী কালকিনি, বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার ৪ লক্ষাধিক বাসিন্দার যাতায়াতের মাধ্যম হচ্ছে এ সড়ক। সাত বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিলো। বর্তমানে এ সড়কের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ খোয়া উঠে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে ওইসব গর্তে পানি জমে যানবাহন চলাচলতো দূরের কথা জনসাধারণের পায়ে হেঁটে চলাচলও সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে।
গৌরনদীর দিয়াসুর গ্রামের ইজিবাইক চালক আইউব আলী জানান, গৌরনদীর ভাঙা রাস্তায় অটো চালানো মুুুশকিল।
উপজেলার চরদিয়াসুর গ্রামের অটোরিকশা চালক ফারুক সন্যমাত জানান, রাস্তা খারাপ দেইখা অহন কেউ রিকশায় ওঠতে চায় না। আয় রোজগার কইম্যা গেছে।
এদিকে বর্তমানে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড-সরিকল বন্দর সড়কের এমন বেহাল অবস্থা হয়েছে যে মোটর সাইকেল নিয়েও চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর কাছে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি করেছেন।
গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন্নাহার মেরি সড়কটির বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে জানান, শুনেছি গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড-সরিকল বন্দর সড়কটির টেন্ডার প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে। কিন্তু কাজ কেন শুরু হচ্ছে না তা তিনি জানেন না বলে জানান।
উপজেলা এলজিইডি বিভাগের গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুর রহমান জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড-সরিকল বন্দর সড়ক সংস্কারের জন্য কয়েক মাস আগে প্রাক্কলন প্রস্তুত করে বরিশাল নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী সড়কের কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে কবে নাগাদ শুরু হবে তার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না তিনি।