উপকূলজুড়ে জনসচেতনতায় কাজ করছে রেড ক্রিসেন্ট

কমছে দুর্যোগে মৃত্যুর হার

ভোলা প্রতিনিধি

উপকূল জুড়ে প্রতি বছর নানা নামে নানা ধরনের দুর্যোগ হানা দেয়। আর এই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি কাজ করছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবীরা। রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যাপক তত্পরতার কারণে উপকূলীয় জেলা ভোলায় দুর্যোগে প্রাণহানির হার ধীরে ধীরে কমে আসছে। সেই সঙ্গে সচেতনতা বেড়েছে উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের মধ্যে। গত পাঁচ বছরে উপকূলে বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলেও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে আসছে। অথচ এক সময় এ ধরনের যে কোনো দুর্যোগে শত শত প্রাণহানির ঘটনা ঘটতো।

আর্তমানবতার সেবায় ১৮৬৩ সালে সুইজারল্যান্ডের নাগরিক জীন হেনরি ডুনান্টের ডাকে সাড়া দিয়ে গড়ে তোলা হয় এই বিশ্ব রেড ক্রশ। বাংলাদেশে যার কার্যক্রম স্বাধীনতার আগে শুরু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। তার অনুপ্রেরণায় অনুপ্রেরিত হয়ে দ্বীপ জেলা ভোলায় রেড ক্রিসেন্টের ইউনিটের আওতাধীন জেলার পাঁচ শতাধিক কর্মী স্বেচ্ছাসেবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষকে প্রচারণার মাধ্যমে নিরাপদে আনতে সহায়তা করছেন তারা। শুধু তাই নয়, দুর্যোগের পরেও তারা নিরলসভাবে কাজ করে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম করছেন। এতে দ্বীপের মানুষ সচেতন হয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহসী ভূমিকা পালন করতে শিখেছে।

ভোলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবক এ্যানী, নোমান, গোপাল জানান, রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আমরা দুর্যোগের আগে উপকূলের মানুষদের সচেতন করে থাকি। এছাড়াও বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাই। যেন সবাই আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসে। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মানুষগুলোকে শুকনো খাবার বিতরণ করা বা প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদান করে থাকি।

রেড ক্রিসেন্ট এর যুব ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবক সাকিব, সাদ্দাম হোসেন, মিমসহ আরো অনেকে জানান, উপকূলের মানুষদের জন্য রেড ক্রিসেন্ট আশীর্বাদস্বরূপ। আমরা মানুষ উদ্ধার করার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিত্সার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকি। এছাড়াও মানুষ কীভাবে দুর্যোগ সহনশীল ঘর তুলবে সেই বিষয়ে পরামর্শসহ বিভিন্ন স্কুলকলেজে ও উঠান সভায় প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। ভোলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নির্বাহী সদস্য আলহাজ ফেরদৌউস আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছরে উপকূলীয় জেলা ভোলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে সিডর, আইলা,  মহাসেন ও রোয়ানুসহ অসংখ্য ঘূর্ণিঝড়। এসব ঝড়ের সময়ে অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মত রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীরা মানুষকে রক্ষায় নেমে পড়েছিলেন প্রচারণায়। মাইক হাতে দিয়ে গেছেন ঝড়ের পূর্বাভাস। মানুষকে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে আনতে পরামর্শের পাশাপাশি দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার কাজেও তাদের রয়েছে সমান অংশগ্রহণ।

শুধু তাই নয়, মানবতা, পক্ষপাতহীনতা, নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা, স্বেচ্ছামূলকসেবা, একতা ও সার্বজনীনতার সাতটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবীরা। এতে দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশ সচেতন প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও আধুনিক নৌযান ও লাইফ জ্যাকেটসহ নানা উপকরণের অভাব রয়েছে বলে জানান ভোলা জেলা রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারী মো. আজিজুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, দুর্যোগ প্রবণ এই জেলায় আরো দক্ষ করে তুলতে হলে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি পেলে দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী সংগঠনে প্রতিষ্ঠিত হবে ভোলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট।

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় ভোলা জেলা রেড ক্রিসেন্ট এর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তারা সবার আগে উপকূলীয় বিভিন্ন পয়েন্টে মাইকিং করে সবাইকে সচেতন করেছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের পরে রেড ক্রিসেন্ট এর স্বেচ্ছাসেবকরা দ্রুত রাস্তার উপর গাছপালা কেটে পরিষ্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করেছে। আমরা চাই রেড ক্রিসেন্ট যেন এই জেলার মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে উঠে এমনটাই প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যাপ্ত ইকুপেন্ড এর ব্যবস্থা করা হয়।