দীর্ঘদিনেও হচ্ছে না চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক

আটকে আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা

সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না। ফলে বন্দরের অনেক উন্নয়নমূলক প্রস্তাবনা আটকে আছে বলে জানা যায়। বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৫/৬ মাস আগে থেকেই কোনো বৈঠক অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। এমনকি নির্বাচনোত্তর নতুন সরকার গঠিত হওয়ার প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও এই কমিটির কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।

জানা যায়, ট্রেড বডি এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, প্রতিনিধি ছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত কয়েকজন সংসদ সদস্য, সিটি মেয়র, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম চেম্বার ও মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতিগণসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। সর্বশেষ চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকেও এই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আগামী কয়েক দশকের সম্ভাব্য চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে এই উপদেষ্টা কমিটি বিভিন্ন সংস্থার প্রস্তাব ও অভিযোগ গ্রহণ এবং সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দীর্ঘদিন বৈঠক না হওয়ায় অনেক ব্যাপারে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে বন্দর ব্যবহারকারী সূত্রগুলোর অভিমত।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, উপদেষ্টা কমিটি এখনও বিলুপ্ত হয়নি। এই কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করে থাকেন বন্দর ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী। উপদেষ্টা কমিটির সর্বশেষ ১৩তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের প্রথমার্ধের কোনো এক তারিখে।

চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ফজলে ইকরাম চৌধুরী বলেন, উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক কখন বসবে সেটা সরকারের ব্যাপার। তবে এই কমিটির বৈঠকে ইতোপূর্বে বন্দর চ্যানেলে ড্রেজিং, বে-টার্মিনাল নির্মাণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বন্দর ব্যবহারকারীরা তাদের সমস্যা তুলে ধরেন। তাই এই ধরনের সভা ঘনঘন করা দরকার। কারণ এতে বিভিন্ন প্রস্তাব ও বন্দর কর্তৃপক্ষ গৃহিত পরিকল্পনার ফলোআপ হয়।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন ইত্তেফাককে বলেন, বন্দর চ্যানেলে ক্যাপিটেল ড্রেজিং সংক্রান্ত নানা সমস্যা নিয়ে উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। পরে এই দায়িত্ব নৌবাহিনীকে দেয়া হয়েছে। বন্দর গেইটে স্ক্যানার নিয়েও আলোচনা হয়। ২টি স্ক্যানার নষ্ট ছিল। সম্প্রতি সেগুলো রিপেয়ার হয়েছে। উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও ফলোআপ হলে সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়।