মধুখালীতে শ্রেণিকক্ষের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান!

মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

মধুখালীর কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ বা ভবনের অভাবে দীর্ঘদিন যাবত্ পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

সময়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩২ ফুট প্রস্থ এই পুরাতন ১১ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবনের নিচতলায় সাত কক্ষের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ তিনটিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বাকি চারটিতে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান চলছে। উপরতলায় চারটি কক্ষে সপ্তম থেকে ১০ম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়তলায় আরো রয়েছে স্মার্ট ক্লাস ও বিজ্ঞানাগার। এই ভবনটির প্রায় অধিকাংশ স্থানই ধসে পড়ছে। আর এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই শিক্ষকরা চালিয়ে যাচ্ছেন পাঠদান কার্যক্রম। ইতিমধ্যে নজীর আহম্মেদ নামে বিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্ম শিক্ষকের শরীরে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ায় আহত হয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ বশীর আহম্মেদ বলেন, ভবন স্বল্পতার কারণে ঝুঁকি জেনেও আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছি। ঐতিহ্যবাহী কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। বর্তমানে জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র এবং এইচএসসি ও পিইসি পরীক্ষার ভেনু হিসেবেও ব্যবহূত হচ্ছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতেই এসব পরীক্ষা হয়। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ভবন ও সম্প্রতি নির্মিত ভকেশনাল ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের দাবি করে বলেন, এছাড়া শিক্ষার্থীদের সঠিক পরিবেশে ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়।

বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম সুলতানা ও গৌরব বিশ্বাস জানান, আমরা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস করি। এ নিয়ে আমাদের অভিভাবকরা চিন্তিত থাকেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ফরিদপুর জোন মোহাম্মাদ হাসান শওকত জানান, কিছুদিন আগে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে পুরাতন ওই ভবনে পাঠদান না করানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে আমাকে অবহিত করলে ব্যবস্থা নেবো।

মধুখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তফা মনোয়ার বলেন, প্রধান শিক্ষককে চিঠি দেবো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস না নেওয়ার জন্য।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়ার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মধুখালী ইউএনওকে জানাবো।