পরমাণু চুক্তি আংশিক বাতিলের ঘোষণা দিল ইরান

ছয় বিশ্বশক্তির সাথে পরমাণু চুক্তি থেকে আংশিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এর এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের  ট্রাম্প প্রশাসন ইরান পরমাণু চুক্তি নামে ২০১৫ সালে করা এই চুক্তিটি বাতিল করে এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন সমৃদ্ধকরা ইউরেনিয়াম ইরান বিক্রি না করে দেশে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি ৬০ দিনের মধ্যে উচ্চতর ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার হুমকিও দিয়েছেন। বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে নিজ দেশের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। তেহরানে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের রুহানির স্বাক্ষরিত চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, পরমাণু সমঝোতা বা জেসিপিওএর কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ স্থগিত রাখবে তেহরান। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ভারি পানি মজুত সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ইরান আর মানবে না।

জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্য এবং জার্মানিকে নিয়ে গঠিত ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ২০১৫ সালে সমঝোতায় উপনীত হয়েছিল তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এটি পরিত্যাগ করায় তেহরান কিছু প্রতিশ্রুতি পালন থেকে বিরত থাকবে। এর আগে, পাঁচ দেশের রাষ্ট্রদূতদের তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণ জানান হয়। তাদের হাতে এ চিঠি তুলে দেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বা এনএনএনসির বৈঠকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা বিশদভাবে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত মে মাসে পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা একতরফাভাবে বের হয়ে যাওয়ার পর ইরান সর্বোচ্চ আত্মসংযম এবং ধৈর্য দেখিয়েছে। এছাড়া সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী অন্যান্য দেশকে ইরানের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের অনুরোধে পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে। ইরানের ব্যাপক ধৈর্য ধারণ সত্ত্বেও তেহরানের ওপর পুনরায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে অন্য পক্ষগুলো। এ অবস্থায় পরমাণু সমঝোতার প্রতি প্রতিশ্রুতি হ্রাস করা ছাড়া আর কোনো পথ ইরানের জন্য ছিল না। বর্তমান অবস্থায়, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ভারি পানি মজুত সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ইরান আর মানবে না।

চিঠিতে ইরানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিশেষ করে তেল এবং ব্যাংকিং খাতের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষর করা দেশগুলোকে ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানের দাবি যতটা মেনে নেওয়া হবে  তেহরানও সে অনুযায়ী তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে।