চলন্ত ট্রেনে এখন বড় আতঙ্কের নাম ‘ঢিল নিক্ষেপ’। এতে করে জানালার কাচ ভেঙে ট্রেনের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। আর ঢিল নিক্ষেপে বন্ধে রেল কর্তৃপক্ষ গত দুই বছরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে এটি বন্ধ করতে পারছে না। এ অবস্থায় একটি বেসরকারি সংগঠনের সহায়তা কামনা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন।
রেল ভবন সূত্র জানায়, গত এক বছরে দেড় শতাধিক ঘটনায় ট্রেন যাত্রী ও রেল কর্মচারীসহ আহত হয়েছেন দুই শতাধিক । সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল রাতে পদ্মা ট্রেনে পাথরের ঢিল ৪ বছরের শিশু জিশান ও তার মায়ের মাথায় লাগে এবং শিশুটি এখন হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার ট্রেন যোগে উত্তরাঞ্চল ভ্রমণের সময় দুষ্কৃতকারীর ছোড়া ঢিলে ট্রেনের কাচ ভেঙে যায়, তবে তিনি অক্ষত থাকেন। কিন্তু এ ঘটনায় কোচের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে পাথরের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে রেলের টিকিট চেকার শিকদার বায়েজিদ এবং প্রকৌশলী প্রীতি দাসের।
রেল সূত্র জানায়, পাথর বা ঢিল ছোড়ার বেশি ঘটনা ঘটছে দেশের ২০ জেলায়। এর মধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ৫টি জেলা এবং পশ্চিমাঞ্চলে ১৫টি জেলা রয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন চলন্ত ঢিল নিক্ষেপের ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বলেন ,চলন্ত ট্রেনে পাথর বা ঢিল নিক্ষেপের ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ছেলেপেলে শুধু কৌতূহলবশত: পাথর ছুড়ে থাকে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতিপূর্বে আমরা নিয়েছিলাম, কিন্তু খুব একটা কাজে আসেনি। তাই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে আমরা সামাজিক আন্দোলন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে ডেকে ছিলাম। এটা বন্ধে ওনার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তিনিও খুব উত্সাহ বোধ করেছেন।
রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোরশেদ আলম বলেন, ঢিল মারে বাচ্চারা। নির্জন এলাকায় বাচ্চারা খেলাধুলা করে, তখন চলন্ত ট্রেনে ঢিল মারে। তিনি বলেন, যেসব স্থানে ঢিল মারার ঘটনা ঘটেছে এমন ৮০টি স্পটের তালিকা আমরা তৈরি করেছি। ওইসব স্পর্টের স্থানীয় মাতব্বর, চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্যদের ধরে এলাকায় একটা সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি কিছু সমস্যাও আছে যে, এসব ঘটনা নির্জন স্থানে হয়ে থাকে। নির্জন এলাকায় তো আমাদের পুলিশের পাহারা নেই। তিনি আরো বলেন, ট্রেন তো আর বাস না। যে ঢিল মারলে থামিয়ে অভিযান চালানো যায়। ট্রেনে ব্রেক কসতে কসতেই ২/৩ কিলোমিটার চলে যায়। আর তিন কিলোমিটার পেছনে এসে পুলিশ নেমে ধরপাকড় করলে আধা ঘণ্টা চলে যাবে।