নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিতে জাপাসহ ৩৮টি দল!

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিতে পড়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জাতীয় পার্টি-জাপাসহ বেশিরভাগ দল। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩৮টি দলই ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। ইতোমধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দলগুলোর হিসাব জমা দেওয়ার সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। দলগুলোকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে সতর্ক করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, ভোটের পর আমরা ৯০ দিন অপেক্ষা করেছি। নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল এখনও জমা দেয়নি। আমরা তাদের ৭ দিনের মধ্যে চিঠি দিব। তারা ৩০ দিনের মধ্যে যেন নির্বাচনে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। এরপরও যদি জমা না দেয় আইনত যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার সেটি কমিশন নিবে। যেহেতু প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের একটি রেজিস্ট্রেশন নাম্বার আছে। নির্বাচন কমিশন থেকে রেজিস্ট্রেশন নিতে হয়। সেহেতু ইসির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করারও এখতিয়ার রয়েছে বলে তিনি জানান।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে কেবল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গত ২১ এপ্রিল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে। নির্বাচনে দলের ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার জন্য সময় বাড়াতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। দলটি আরো এক মাস বাড়তি সময় চেয়েছে। বুধবার দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর চিঠি নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে যায়। বাকি ৩৮ দল সময় চায়নি, হিসাবও জমা দেয়নি। এই ৩৮ দলের তালিকায় সংসদের বিরোধী দল জাপাও রয়েছে।  ফলে এসব দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে ইসি।

একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। আইন অনুযায়ী সব দলের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার সময়সীমা গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর আরো একমাস অতিক্রম হয়েছে। জরিমানাসহ যে ১৫ দিন ছিল সেটিও শেষ হয়ে গেছে। নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দল পরবর্তীতে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২৫৮ জন, বিএনপির ২৪২ জন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৯৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আর জাপা প্রার্থী দেয় ১৭৪ আসনে। দলগুলো চাঁদা ও অনুদানসহ অন্যান্য খাত থেকে আয় করতে পারে। তবে নির্বাচনে ব্যয় করতে হয় নির্ধারিত খাতে। এগুলো হলো দলীয় প্রধানের ভ্রমণ, পোস্টার এবং প্রচার ও প্রচারণা খাত।