ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ । দেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর যেভাবে নির্যাতন-অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে, তাতে আমরা বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি বলে আশঙ্কা হচ্ছে। যেসব ঘটনা ঘটে চলেছে, এগুলো ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস আয়োজিত নাগরিক সম্প্র্রীতি সভায় তিনি একথা বলেন।
মেনন বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি দল পর্নো ছড়িয়ে দিচ্ছে। আরেক দল ছড়াচ্ছে সাম্প্র্রদায়িকতা।
সভায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন, জুলুমের ঘটনা ঘটছে। তাদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার উদাসীন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, সংখ্যালঘু মানুষের সম্পদ হরণ করা হচ্ছে। যেন সম্পদ থাকাটা একটা অপরাধ। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত বলেন, সমাজে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ঘটনার দিকে তাকালে মনে হয়, আমরা যেন পাকিস্তানি ধ্যান-ধারণা বা আদর্শ ভুলতে পারছি না। বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশে যে নাগরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা পায়, সেই চেতনা আজ ভূলুণ্ঠিত।
সভাপতির বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সমাজে যারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন।
আরো বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও ইন্টার রিলিজিয়ান হারমোনী সোসাইটির মহাসচিব মনোরঞ্জন ঘোষাল।