ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। যা ১৮৫৮ সালে ব্রাক্ষ্ম স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৫ সালে দেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। মাত্র একযুগের পরিক্রমায়ই প্রায় ২৩ হাজার স্বপ্নচারীর আবাসস্থল হিসেবে পরিগণিত। আরো হাজারো স্বাপ্নীক স্বপ্ন বুনছে এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠকে ঘিরে।
পূর্ব দিগন্তে সূর্য যখন তার আভা ছড়িয়ে জেগে ওঠে, তখনই দূর-দূরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীরা রওয়ানা হয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। চেপে বসে আবেগ-অনুভূতির জায়গা জবির লালবাসে। একবুক আশা ও স্বপ্নকে সঙ্গী করে স্বাপ্নিকরা যখন ক্যাম্পাসে পৌছে, জবি ফিরে পায় অন্যরকম পরিবেশ। সকালের শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশে বাস থেকে নেমে, একঝাঁক স্বপ্নচারী তরুণ-তরুণী যখন ঘুরে বেড়ায় মায়া জড়ানো ক্যাম্পাসে, যেন বিস্তীর্ণ আকাশে একঝাঁক পাখি খেলা করে!
ভোরের যাত্রার ফলে, অনেকেরই মেসে বা বাসায় নাস্তা করা হয়ে ওঠে না। তাই ত সকাল বেলা জবি ক্যাফেটেরিয়া, রেভেনাস প্লাস আর টিএসসিতে চোখে পড়ে দীর্ঘলাইন। পরটা-ভাজি, শিঙ্গারা-খিচুড়ি কিংবা এক কাপ চায়ের চুমুকেই শুরু হয় জবিয়ানদের দিনের যাত্রা। নাস্তা সেরেই কেউ ছুটে ক্লাসের দিকে, লাইব্রেরিতে, কেউ সেমিনারে আর কেউবা মজে আড্ডা আর গানে! কত বিচিত্র মানব মনের বিচরণ স্থল ছোট্ট পরিসরের এই জবি ক্যাম্পাস।
এখানে নেই সুবিশাল ক্যাম্পাস! পর্যাপ্ত আবাসন! গুণগত মানের ক্যান্টিন! উন্নত চিকিত্সা সেবা কেন্দ্র! আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন শ্রেণী কক্ষ! সুবিশাল গ্রন্থাগার! তাতে কি! এখানে আছেন আন্তরিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, যারা জানেন কীভাবে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হয়। জানেন, কেমন করে প্রতিকূলতা দূর করে এগিয়ে যেতে হয় স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে!
ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে কিংবা পড়ন্ত বিকালে ক্যাম্পাসে ফুটে ওঠে এক দারুণ প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন নিয়মিত আড্ডা জমে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বর, ভাস্কর্য চত্বর, শান্ত চত্বর, এমসিজে চত্বর, অসহায় চত্বর, কাঁঠালতলা, ক্যাফেটেরিয়া, লাইব্রেরি ও টিএসসির চায়ের দোকানগুলোতে। দলবেঁধে আড্ডা আর খনসুটিতে মত্ত হয়ে ওটে জবিয়ানরা। হাসি-খুশি, মায়া জড়ানো আড্ডাতে ওঠে আসে অনেক কিছুই। ক্যাম্পাস জীবন যেন বন্ধুত্ব আড্ডা, শিল্প-সাহিত্য ও ভালোবাসার ছোঁয়ায় ঘেরা।
শুধু আড্ডা আর উত্সব উদযাপনে সীমাবদ্ধ নয়, জবিয়ানদের মেধাকে শাণিত করতে জবিতে রয়েছে, সাংবাদিক সমিতি, আবৃতি সংসদ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, এশিয়ার সবচেয়ে বড় রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, রিসার্চ সোসাইটি, জাতিসংঘ মডেল ইউনিয়ন, সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল, কনজ্যুমার ইয়ুথ, সেপসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠন। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার, কর্মশালা করে থাকে সংগঠনগুলো।
শত প্রতিকূলতা আর প্রতিবন্ধকতা সত্বেও মাত্র একযুগের পরিক্রমায় জবি যে সাফল্য অর্জন করেছে তা সত্যিই ঈর্ষান্বিত। বিসিএস থেকে শুরু করে সর্বধরণের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরেই যার অবস্থান। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একান্ত একনিষ্ঠতার ফলেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পথচলা।