নতুন ভ্যাট আইন বস্তবায়নে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

বহুল আলোচিত ভ্যাট আইনটি বাস্তবায়নের আগ মুহূর্তেই মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কার কথা জানালো ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির অভিযোগ, আইনটি বাস্তবায়নে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা মূল্যায়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানানো হলেও গত দুই বছরেও তা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে অপ্রস্তুত ও পুনর্মূল্যায়নে সময়ক্ষেপণকৃত ভ্যাট আইনটি বাস্তবায়ন করলে তা মূল্যস্ফীতির সৃষ্টি করবে। এটি গণমানুষের বিপক্ষে যাবে এবং সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে ভ্যাটের একাধিক হার সম্বলিত পণ্যসমূহে রেয়াতি সুবিধা না থাকলে তাও মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করবে বলে মনে করে এফবিসিসিআই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনটি এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

ওই চিঠিতে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত দুই বছরে এনবিআরের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হয়নি। বাংলাদেশে যে কোনো আইন বা নীতিমালা বাংলাদেশ ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ এর সথে সঙ্গতিপূর্ণ না হলে এফবিসিসিআই কোনোভাবেই তা সমর্থন করে না। এফবিসিসিআই ২০১২ সাল থেকেই বলে আসছে, নতুন ভ্যাট আইন দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে কোনোভাবেই বাস্তবায়নযোগ্য নয়।

ট্যারিফ পদ্ধতিতে ভ্যাট প্রদানকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, ওই ব্যবস্থা উঠে গেলে পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে। এটি মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেবে। এই ইস্যুতে সম্প্রতি স্টিল খাতসহ একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠন সংবাদ সম্মেলন করেছে। এছাড়া এনবিআরকেও চিঠি দিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, অনেক খাতের ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছে। একটি সমীক্ষা চালানোর কথা বলেছি, হয়নি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয়। আইনটির সহজ বাস্তবায়নের জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে এখনো সময় আছে বলে আমরা মনে করি। তিনি বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী সম্পূরক শুল্ক উঠে যাবে। সেক্ষেত্রে দেশিয় শিল্প সুরক্ষায় কী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

এদিকে নতুন ভ্যাট আইনটি বাস্তবায়নে একাধিক ভ্যাট হার থাকবে বলে ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী প্যাকেজ ভ্যাট ও ট্যারিফ পদ্ধতির ভ্যাট থাকবে কিনা- তা এখনো পরিষ্কার নয়। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ভ্যাটের সর্বোচ্চ হার হবে ১০ শতাংশ। সেক্ষেত্রে রেয়াত নেওয়ার সুবিধা থাকবে কিনা-তা নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। সম্প্রতি বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, রেয়াত সুবিধা পেতে হলে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে।

এফবিসিসিআইয়ের চিঠিতে সভা অনুষ্ঠানের পর ওই সভার কার্যবিবরণী এফবিসিসিআইয়ের কাছে না পাঠানো এবং সভার নোটিশ দিয়ে তা অনুষ্ঠিত না হওয়া নিয়েও হতাশা প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, গত দুই বছরে অনুষ্ঠিত সভাগুলোর সিদ্ধান্ত প্রতিফলিত না হওয়া স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ উপেক্ষা করার সামিল।