হাইকোর্ট বলেছে, ফৌজদারি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হচ্ছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ময়না তদন্তকারী চিকিত্সক। অনেক ফৌজদারি মামলায় সমন ও জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানি জারি করার পরেও এসব সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হচ্ছে না। পুলিশ, চিকিত্সকসহ যে সব সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় সাক্ষী রয়েছেন তারা যদি সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির না হন তাহলে এদের বেতন আটকে দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিতে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একটি হত্যা মামলার নথি পর্যালোচনা করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন।
আদালত বলে, অনেক ফৌজদারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী পুলিশ সদস্য, ময়না তদন্তকারী চিকিত্সক বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘদিন যাবত্ বিদেশে অবস্থান করেন। অনেক পুলিশ সদস্য শান্তি রক্ষা মিশনে, অনেক চিকিত্সক উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিদেশে যান। এদের মধ্যে যারা মামলার সাক্ষী হিসেবে থাকেন তাদের বিদেশে থাকার কারণে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এ থেকে কীভাবে উত্তোরণ করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনার সময় এসেছে।
১৯৯৮ সালে ডেমরায় হযরত আলী ও মাসুদ হোসেন নামে দুই যুবককে কুপিয়ে শরীর থেকে দু’হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয় সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে হযরত আলী মারা যাওয়ার ঘটনায় তার পিতা শওকত আলী ফকির ঐ বছর ১৬ মার্চ ডেমরা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ওরফে কালা জাহাঙ্গীরসহ ১০ জনকে আসামি করে ২০০৩ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০৪ সালের ৮ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। কিন্তু গত ২১ বছরেও এই মামলার একজন সাক্ষীও আদালতে হাজির হননি। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তলব আদেশে গতকাল হাইকোর্টে হাজির হন ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, গত এক বছর ধরে মামলাটি আমার আদালতে। এই সময়ে সকল সাক্ষীকে সমন ও পরোয়ানা জারি করেও হাজির করা সম্ভব হয়নি। এমনকি মামলার বাদিও সাক্ষী দিতে আসেননি। হাইকোর্ট বলে, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একইসঙ্গে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারককে নির্দেশ দেয় আদালত। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন। আদালত ওই মামলার আসামি হেমায়েতের জামিন মঞ্জুর করেছে।