ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে অর্থনীতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। ভোগ্য পণ্যে চাহিদার কমতি, শ্রমের মূল্য বাড়ায় উত্পাদন খাতের সমস্যা বৃদ্ধি, কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির তথ্যই বলে দিচ্ছে অর্থনীতির ক্রমাবনতির কথা।
ভারতে ভোগ্য পণ্যের চাহিদা কমছে। বিশেষ করে গাড়ি কোম্পানিগুলোর বিক্রয়ের চিত্র দেখলে সেটি বোঝা যায়। গত এপ্রিলে দেশটির অতি পরিচিত মারুতি সুজুকি এবং হুন্দাই মোটরের দেশীয় বিক্রি যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৭ ভাগ এবং ১০ দশমিক ভাগ কমেছে। এছাড়া দুই চাকার গাড়ি নির্মাতা ছয়টি শীর্ষ কোম্পানির বিক্রিও কমেছে। ভারতের গ্রাম্য অর্থনীতি নির্ভর করে কৃষিখাতের ওপর। প্রভাবশালী মিডিয়া ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, কৃষকদের আয় অনেক কমে গেছে। অথচ ২০২২ সালের মধ্যে এই আয় দ্বিগুন করার অঙ্গীকার করেছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির দল বিজেপি। গত ৫ বছরে কৃষি খাতের গড় প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ ভাগ ছিল। এর আগের ৫ বছর এই হার ছিল ৪ দশমিক ৩ ভাগ। কৃষি পণ্যের রপ্তানিও কমেছে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে কৃষি পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৩ বিলিয়ন ডলারের। গত বছর সেটি কমে ৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু একই সময়ে কৃষি পণ্যের আমদানি ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ বিলিয়নে পৌঁছেছে।
উত্পাদন খাতও খুব বেশি ভাল নেই। গত ফেব্রুয়ারিতে কারখানার উত্পাদন সূচক (ইনডেক্স অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন) ছিল শূণ্য দশমিক ১ ভাগ। ২০ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটাই সর্বনিম্ন উত্পাদন সূচক। কারণ এর আগের বছর একই মাসে এই সূচক ছিল ৬ দশমিক ৯ ভাগ। বেকারত্ব পরিস্থিতিও নাজুক। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনোমি (সিএমআইই) এর তথ্যানুসারে, গত এপ্রিলে বেকারত্ব বেড়ে ৭ দশমিক ৬ ভাগে পৌঁছেছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর এটাই সবচেয়ে বেশি। গত মার্চেও বেকারত্বের হার ছিল ৬ দশমিক ৭১ ভাগ। কর্মসংস্থানে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমের মূল্যবৃদ্ধি।