আঙুলের ইনজুরি কাটিয়ে ফিট হয়েই আইপিএলে চলে গিয়েছিলেন। জাতীয় দলের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে ছিলেন না সাকিব আল হাসান। আইপিএলে বেশিরভাগ সময় কেটেছে সাইড বেঞ্চে বসে। ম্যাচ খেলেছেন মাত্র তিনটি। ম্যাচ না খেললেও আইপিএল চলাকালীন বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন সাকিব। বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেই নিজের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সেরেছেন তিনি।
ওজন কমিয়ে ঝরঝরে হয়েছেন। গত একমাসে অন্তত ৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন। ফিটনেসের দিক থেকে হয়েছে বিরাট উন্নতি। আর এসব সবকিছুই বিশ্বকাপকে মাথায় রেখেই করেছেন সাকিব। কঠোর পরিশ্রমের পর মাঠে ফিরে শুরুটাও ভালো হয়েছে তার। আয়ারল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিংয়ে ১ উইকেটে, ব্যাটিংয়ে ৫৪ রান করেছেন। ছয় মাস পর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নেমে মঙ্গলবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেও ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল এই অলরাউন্ডার। অপরাজিত ৬১ রান করেছেন এবং এক উইকেট নিয়েছেন। এই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপেও ধরে রাখতে চান বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের সহঅধিনায়ক।
গত বুধবার ডাবলিনে নিজের বিশ্বকাপ ভাবনা, প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন সাকিব। বিডিনিউজকে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে ফোকাস অবশ্যই আছে। একটা চোখ তো বিশ্বকাপে আছেই। ওভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছি গত এক-দেড় মাসে। শুরুটা ভালো হলো এখানে। এখানকার আত্মবিশ্বাস অবশ্যই ইংল্যান্ডে কাজে লাগবে। বিশ্বকাপ অনেক কঠিন। আমাদের সবাইকে খুব ভালো ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় থাকতে হবে।’
এটি হবে সাকিবের চতুর্থ বিশ্বকাপ। বড় আসরের জন্য তার পরিকল্পনাও বেশ বড়। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ সামনে ছিল। একটি লক্ষ্য নিয়েই করেছি। সবারই লক্ষ্য থাকে। বিশ্বকাপ খেলা প্রতিটি ক্রিকেটারেরই নিজস্ব লক্ষ্য আছে। একটি কথা বলতে পারি, গত ৮-৯ বছরে মনে হয় এত কষ্ট করিনি, যতটা পরিশ্রম ও প্রস্তুতি এই বিশ্বকাপের জন্য নিয়েছি। আমার তরফ থেকে যতটুকু করার সম্ভব ছিল, করেছি। বাকিটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা ও আমার চেষ্টা।’
ফিটনেসে বড় উন্নতি এনেছেন সাকিব। যার প্রশংসা করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। নিজের ফিটনেস নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘নিজেও খুব ভালো অনুভব করছি। নিজের কাছে অনেক আত্মবিশ্বাসী লাগছে, অনেক ফিট মনে হচ্ছে নিজেকে। ফিট না থাকলে অনেক সময় মন চাইলেও বা চেষ্টা করলেও শরীর সমর্থন করে না। এখানে যেটা হচ্ছে যে, মন যেটা চাইছে, শরীর সেটা সমর্থন দিচ্ছে। তাই খুব ভালো অবস্থায় আছি এখন। এটা ধরে রাখাই এখন আসল।’
ফিটনেসের বিষয়ে এত সিরিয়াস হওয়ার প্রেরণার উত্স অবশ্য প্রকাশ করেননি বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেছেন, ‘বললাম না, মাঝে মাঝে ‘কিক’ মুভির মতো ‘কিক’ দরকার হয়! কোনো একটা ভাবে, সেই কিক আমি পেয়েছি। কিক এসেছে। কিভাবে, তা আড়ালেই থাকুক। তবে কোনো ভাবে এসেছে কিকটা, সেটিই আমাকে জাগিয়ে দিয়েছে। এমন নয় যে খুব বড় কিছু কিন্তু একটি কিক তো এসেছেই।’
অনেক বছর পর ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন সাকিব। ২০১১ সালের পর ফিটনেস এতটা সিরিয়াস হয়েছেন এবারই প্রথম। বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক বলেছেন, ‘২০১১ সালের আগ পর্যন্ত খুব ভালো ফিট ছিলাম। তারপর এই পর্যন্ত ফিটনেস নিয়ে আলাদা কাজ করার সেভাবে সুযোগ হয়নি বা করে উঠতে পারিনি। করার জেদও হয়তো আসেনি। এবার কিক এসেছে বলেই আলাদা করে করেছি।’-বিডিনিউজ