টটেনহ্যাম কোচ মরিচিও পচেত্তিনো আশা করছেন এবারের ‘অল ইংলিশ’ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালটি হবে দারুণ। তার দল লিভারপুলের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে আয়াক্সকে তাদের মাঠে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর একথা বলেন তিনি।
আগামী ১ জুন স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হবে এ ফাইনাল। এতে অংশ নেবে দুই ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল ও টটেনহ্যাম যারা এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল।
লুকাস মৌরার দ্বিতীয়ার্ধের হ্যাটট্রিক টটেনহ্যাম গত বুধবার রাতে আয়াক্সের মাঠে ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয়টি তুলে নেয়। মৌরা শেষ গোলটি করেন ৯৬তম মিনিটে। ব্রাজিলীয়টির নাটকীয় হ্যাটট্রিকে শেষপর্যন্ত দুই লেগের এ লড়াই ৩-৩ গোলে শেষ হয়। কিন্তু বিপক্ষে মাঠে দেওয়া গোলের হিসেবে ফাইনালে যোগ দেয় টটেনহ্যাম।
লিভারপুল এর ২৪ ঘণ্টা আগে নাটকীয়ভাবে বার্সেলোনাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে। কোচ য়ুর্গেন ক্লপের দল এর আগে বার্সেলোনার মাঠে ৩-০ গোলে হারলেও অসম্ভবকে সম্ভব করে।
এরকম জয়ের পর আবেগে বানভাসি হন আর্জেন্টাইন কোচ পচেত্তিনো। তার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে আনন্দ অশ্রু। খেলোয়াড়দের নিয়ে আবেগে বিহ্বল এই কোচ মাঠের সবুজে হাঁটু গেড়ে বসে তা উদযাপন করেন। পরে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ রাতগুলোর একটি।
ইংলিশ ক্লাবটি প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে আয়াক্সের কাছে হেরে পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছিল। এরপর আমস্টার্ডামে খেলতে গিয়ে বিরতি সময়েও তারা পিছিয়ে ছিল ২-০ গোলে। কিন্তু ফরোয়ার্ড মৌরাপ্রাপ্ত সুযোগগুলোর দুর্দান্তভাবে কাজে লাগিয়ে অসাধ্য সাধন করেন।
এমন অবিশ্বাস্য জয় যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না পচেত্তিনো নিজেই। তাই তিনি বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ক্লাবকে দেখতে পাওয়া আমি মনে করি জাদুকরী কিছুর খুবই কাছাকাছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘মৌসুমের শুরু থেকেই কেউ আমাদের ওপর আস্থা রাখছিল না। ? আমরা শীর্ষ চারের খুবই কাছাকাছি আছি এবং মাদ্রিদে লিভারপুলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়েছি।’
ক্লাবটির ডিফেন্ডার ড্যানি রোজ জানিয়েছেন পচেত্তিনো খেলাটির আগেই অপর সেমিফাইনালে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বীরত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন খেলোয়াড়দের।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগের রাতে লিভারপুলকে দেখেছি। খেলাটি দেখিয়েছে শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুরই সমাপ্তি ঘটে না। কোচ খেলাটির আগে হোটেলে আমাদের লিভারপুলের নৈপুণ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা হারলে কিছুই মনে করতেন না কোচ। কিন্তু আমাদের হারটি হতে হতো যৌক্তিক। আমরা ভাগ্যবান যে উতরাতে পেরেছি। এখন আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের দিকে তাকিয়ে আছি।’
লিভারপুল ও টটেনহ্যামের এবারের ফাইনালটি হবে মস্কোয় ২০০৮ সালে চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মধ্যকার লড়াইয়ের পর প্রথম দুই ইংলিশ ক্লাবের ফাইনাল।
এ প্রেক্ষাপটে বিপক্ষ সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে রাজি হননি পচেত্তিনো। চলতি মাসেই ক্লাবে নিজের পঞ্চম বছর পূর্ণ হতে চলা এই কোচ বলেন, ‘আমাকে কিছুটা স্থিত হতে দিন। লিভারপুলকে নিয়ে কথা বলার জন্য সামনে সময় হবে।’
এরপরও তিনি বলেন, আমি য়ুর্গেন ক্লপ এবং সমস্ত খেলোয়াড় ও লিভারপুলকে অভিনন্দন জানাতে চাই। কারণ আমি মনে করি তারা দারুণ কিছু করেছিল। বার্সেলোনার বিরুদ্ধে খেলাটি আমরা অনেক উপভোগ করেছিলাম। তারাও বীর। অবশ্যই দুটি ইংলিশ দলের মধ্যকার ফাইনালটি হতে যাচ্ছে দারুণ এক ব্যাপার। নিশ্চিতভাবে আমরা এটা উপভোগ করতে যাচ্ছি।’