উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল হবে, অথচ তাতে লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থাকবেন না- এমনটা গেল ছয় বছরের পাঁচ মৌসুমে ভাবাই যায়নি। তবে, এবারই তার ব্যতিক্রম হতে চলেছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে এবার মুখোমুখি হবে দুই ইংলিশ ক্লাব লিভারপুর ও টটেনহ্যাম হটস্পার। ফলে, ছয় মৌসুম পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে থাকবেন না এসময়ের দুই সেরা ফুটবলারের কেউই।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে অবধারিত ভাবে মেসি কিংবা রোনালদো কোনো একজনের থাকার সূচনা হয় সেই ২০১৩ সালে। এর মধ্যে ২০১৩-১৪, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ মৌসুমে চারটি ফাইনাল রোনালদো খেলেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। জিতেন চারটিতেই। এর মধ্যে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ফাইনালে হারান দুইবার, একবার জুভেন্তাসকে ও একবার লিভারপুলকে। আর প্রতিটি ম্যাচেই আধিপত্য ধরে রেখে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
আর এই সময়ে মেসি একটা ফাইনালই খেলেছেন। সেটা ২০১৪-১৫ মৌসুমের কথা। সেবার ফাইনালে বার্লিনে জুভেন্তাসকে ৩-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে শিরোপা জয় করে কাতালান ক্লাবটি। মানে, গেলো পাঁচটি আসরের ফাইনালে মেসি ও রোনালদো কেবল ফাইনালই খেলেনই, চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন।
জুভেন্তাস এবার সে ফ ইউরোপের সেরা দল হওয়ার মিশনেই রোনালদোকে দলে টেনেছিল। তবে, তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে ডাচ ক্লাব আয়াক্স অ্যামস্টারডামের কাছে হেরে বিদায় নেয় রোনালদোর ক্লাব।
তবে, সবচেয়ে নাটকীয় বার্সেলোনার বাদ পড়াটা। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে লিভারপুলকে নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল লিওনেল মেসির দল। তবে, অ্যানফিল্ডে দ্বিতীয় লেগে চমকে দেয় ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। মোহামেদ সালাহ ও রবার্তো ফিরমিনোর মতো তারকারা মাঠের বাইরে থাকার পরও ৪-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। ফলে, লিভারপুল চলে যায় ফাইনালে। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলা থেকে বঞ্চিত হন মেসি।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে নতুন একটা ইতিহাসই রচিত হবে। কারণ, ১১ বছর পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলবে দুই ইংলিশ ক্লাব। সর্বশেষ ২০০৮ সালে মস্কোর ফাইনালে চেলসিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
যদিও, এরপরও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বশেষ ১০টি মৌসুমের ৪০ সেমিফাইনাল ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, স্প্যানিশদের আধিপত্য এখনো টিকে আছে। কারণ, এর মধ্যে ১৬টিতেই খেলেছে স্প্যানিশ দল। যদিও, এগুলো কেবল রিয়াল, বার্সা ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এর বাইরে নয়টিতে জার্মানরা আর, আটটিতে খেলেছে ইংলিশরা।