লামায় পাহাড়-ছড়া থেকে চলছে মাটিকাটা ও বালু উত্তোলন!

লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন এবং লামার সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড় কেটে, ঝিরি ও ছড়া থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন অব্যাহত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লামা উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার।

জানা গেছে, চকরিয়া-ফাঁসিয়াখালী ও বাইশারীর একটি চক্র গত ৩ মাস ধরে ফাঁসিয়াখালীর লাইল্লারমার ছড়ার খাল, সাপেরঘাড়া, বগাইছড়ি, মালুম্যা, হারগাজা, ফকিরাখোলা, কাগজিখোলার পুটাখালি ছড়া থেকে অবৈধভাবে মাটি এবং বালু পাচার করে আসছে। কক্সবাজার রেল লাইন নির্মাণ কাজে প্রতিদিন ও রাতে কয়েকশ ট্রাক মাটি এবং বালু পাচার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঝিরি এবং ছড়া থেকে বালু উত্তোলনে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করা হয়। পাহাড় এবং চাষের জমি থেকে মাটি আহরণে এক্সকাভেটর মেশিন ব্যবহার করা হয়। ইতিমধ্যে কয়েকশ চাষের জমি থেকে মাটি উত্তোলন করায় চাষাবাদ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন লিখিত অভিযোগ করে জানিয়েছেন, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট খুটাখালীর ছড়াসহ বিভিন্ন ঝিরি এবং ছড়া থেকে নির্বিচারে বালু ও মাটি পাচার করায় জনবসতি হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে কয়েকশ পরিবারের বাড়িঘর হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। কয়েকশ একর ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাচারকারীরা নিজেদের ক্ষমতাশীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী দাবি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ উঠেছে। বালু ও মাটির ট্রাক পাচারের সময় পাচারকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে স্থানীয় অধিবাসীদের ও প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে।

লামা উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার আরো জানান, ফাঁসিয়াখালী পুরো ইউনিয়ন মাটি, বালু এবং পাথর পাচারকারীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। প্রতিটি সড়ক দিয়ে শত শত ট্রাক বালু, মাটি এবং পাথর পাচার হওয়ায় সড়কগুলো স্বাভাবিক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানান, নির্বিচারে বালু, মাটি এবং পাথর পাচারের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনকারীরা বেপরোয়াভাবে পাচার কাজে লিপ্ত হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে পাচারকারীরা একাধিক সড়ক ব্যবহার করার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়। প্রশাসনিক অভিযান এ বিষয়ে আরো জোরদার করা হবে।