বেপরোয়া অসাধু ব্যবসায়ীরা

খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও বাজারে পণ্যমূল্য নির্ধারণে মাঠে নেমেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র। রমজানের প্রথম দিন থেকেই দুই সিটির দশটি অঞ্চলে দশজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়েছে। তবুও খেয়াল খুশি মতো পণ্যের দাম হাঁকাচ্ছে বিক্রেতারা। যার কাছে যেভাবে পারছে, সেই দামে বিক্রিও করা হচ্ছে। মেয়র কিংবা বাজার মনিটরিংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাজারে ঢুকলে ব্যবসায়ীরা তাদের যেভাবে দাম দেখাচ্ছেন, তারা চলে গেলেই পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট। রমজানের আগেই সিটি করপোরেশন থেকে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা। বাজার পরিদর্শনে গিয়ে দুই মেয়র এর প্রমাণও পেয়েছেন।

গতকাল হাতিরপুল কাঁচাবাজারে সিটি করপোরেশনের বাজার মনিটরিং টিমের সঙ্গে বাজার পরিদর্শন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গাবতলী পশু হাটের চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে গরুর মাংসের দাম কিছুটা হলেও কমবে।

মেয়র বলেন, আমরা মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছিলাম। তারা আমাদের বলেছেন, গাবতলী পশুর হাটে চাঁদাবাজির কারণে তারা ক্রেতাদের কাঙ্ক্ষিত মূল্যে মাংস দিতে পারছেন না। যে কারণে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি। আমরা ডিএমপিকে বিষয়টি জানিয়েছি। চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে হয়তবা সাশ্রয়ী মূল্যে দেশি গরুর মাংস সরবরাহ করতে পারবে বিক্রেতারা।

এদিকে মোহাম্মদপুর টাউনহল মার্কেট আকস্মিক পরিদর্শন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে মাংস বিক্রির প্রমাণ পান। একটি দোকানে গরুর মাংস ৫২৫ টাকা বিক্রি করলেও অপরপাশের আরেকটি দোকানে ৫৫০ টাকা দেখতে পেয়ে মেয়র উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) মীর নাহিদ আহসানকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এছাড়া পরিদর্শনকালে টাউনহল মার্কেটের পিছনে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা করায় মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাত্ক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। টাউনহল মার্কেটের পিছনের রাস্তা থেকে দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য মেয়র ২৪ ঘণ্টা সময় দেন।

সিটি করপোরেশনের বাজার মনিটরিং টিম মাঠে থাকলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে খেয়াল খুশি মতো কাঁচামাল বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, আগারগাঁও, তালতলা, মোহাম্মদপুর টাউন হল, মিরপুর-১, মেরাদিয়া হাট, খিলগাঁও কাঁচাবাজার ও শাহজাহানপুর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস কেজি প্রতি ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অনেক স্টলে নির্ধারিত মূল্যের তালিকা টানানো আছে ঠিকই, বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। আবার অনেক বাজারে মূল্য তালিকা টানানো নেই। বিক্রেতারা বলছেন, তাদের কাছে নির্ধারিত মূল তালিকা এখনো পৌঁছায়নি। তাই আগের দামেই বিক্রি করছেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রবিউল আলম জানান, কে কিভাবে বিক্রি করছে আমরা বলতে পারব না। কারণ আমাদের নিজেদের বসার কথা ছিল, সেই সুযোগটুকু পাইনি। আমাদের বসার ঠিকানা ছিল গাবতলীতে। সেখানে ইজারাদাররা আমাদের ঢুকতে না দেওয়ায় মাংসের দাম নিয়ে কিছু করার নেই।