ঘূর্ণিঝড় ফণীতে ক্ষতিগ্রস্তদের কৃষিঋণ মওকুফের সুপারিশ

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ফসল, বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট বাঁধসহ বিভিন্ন খাতে ৫৩৬ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ তথ্য উপস্থাপন করা হয় বলে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল জানান।

সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিওদের কাছ থেকে নেওয়া কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং পুনরায় তাদের ঋণ দেওয়ার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে জানিয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে যেসব চাষি তা পরিশোধ করতে পারেননি, তাদের বিরুদ্ধে যেন মামলা করা না হয়, সেজন্য অর্থ বিভাগকে বলা হয়েছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সেই সুপারিশ করবে। স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এনামুল হক শামিম, কৃষি স্থানীয় সরকার, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভায় ক্ষয়-ক্ষতি কীভাবে নিরসন করা হবে সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো থেকে জানানো হয়। শুধুমাত্র পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বাদে অন্যসব মন্ত্রণালয় নিজস্ব চলতি বাজেট থেকে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে বলে জানানো হয়।

ত্রাণ সচিব জানান, ফণীর কারণে ৭৮ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকার ঘরবাড়ি, ২৫১ কোটি টাকার বাঁধ, মত্স্য খাতে ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, ৫ কোটি টাকার আমের বাগান এবং কৃষিতে ৩৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের ২৪১ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতের প্রয়োজন হবে যাতে খরচ ধরে ১৬১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ক্ষতি ধরা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণসহ পুনর্বাসনের পরিকল্পনা তৈরি করে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ফণীর তাণ্ডবে বরগুনায় ২ জন এবং ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে একজন করে মোট পাঁচজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

বিবরণ থেকে জানা যায়, ফণীতে ২ হাজার ৩৬৩টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১৮ হাজার ৬৭০টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬৩ হাজার ৬৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর্থিক পরিমাণ ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বিভিন্ন জেলায় ২৪৩ জায়গায়  ২১ দশকি ৯৫ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা মেরামতে প্রয়োজন ২৫১ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন ২৪১ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এছাড়া নেত্রকোনায় হাওরের যে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তা মেরামত করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সভায় ২৫১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করলে অর্থ বিভাগ তা অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। ত্রাণ সচিব বলেন, ঘূর্ণিদুর্গত মানুষের জন্য ১৪ হাজার ৫০ মেট্রিকটন চাল, ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, ৪১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৪ হাজার বান্ডেল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে ৩৫টি বিদ্যালয় ঘূর্ণিঝড়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। যাচাই-বাছাই করে সেগুলো সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাদের আওতাধীন ২৪১ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ঝড়ে যেসব টিউবওয়েল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে মেরামত করতে বলা হয়েছে।