সারা বছর বিএসটিআই কি করে :হাইকোর্ট

হাইকোর্ট বলেছে, বিএসটিআই একটি বিশেষ সরকারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য চিহ্নিত হয়েছে। এসব পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তা না করে শুধু শোকজ করেছে। এতেই কি তাদের দায়িত্ব শেষ?  আদালত আরো বলে, দেশ পরিচালনা করে সরকার। কোন পণ্যে ভেজাল হচ্ছে, কোন জেলখানায় মানুষ পুড়ে যাচ্ছে এসব কেন আমাদের কাছে আসবে। এসব বিষয়ে আমাদের হস্তক্ষেপ করার কথা নয়।

নামি-দামি ব্র্যান্ডের নিম্নমানের ৫২ প্রকারের পণ্য জব্দ ও বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দুজন কর্মকর্তাকে তলব করে আদালত। আগামী রবিবার উপ-পরিচালকের নিচে নয় এমন পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

গত ২ মে বিএসটিআই নিম্নমানের ৫২ প্রকারের পণ্যের তালিকা প্রকাশ করে। ওইসব পণ্য জব্দ ও বাজার থেকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি মান উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত উত্পাদন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটির পক্ষে আইনজীবী সিহাব উদ্দিন খান। শুনানিতে তিনি বলেন, বিএসটিআই পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বাজার হতে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করে। এরমধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫২টি পণ্য পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। অর্থাত্ এসব পণ্য নিম্নমানের।

এ পর্যায়ে আদালত বলে, প্রতি সপ্তাহে একটি করে জনস্বার্থমূলক মামলা আমাদের সামনে আসছে। এটাতে ভেজাল ওটাতে ভেজাল। কিন্তু বিষয়গুলো এত গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের সামনে আসলে উপেক্ষা করতে পারি না। বিশেষ ক্ষমতা আইনে খাদ্যে ভেজালের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান আছে। তারপরেও ভেজাল পণ্য বিক্রি হচ্ছে। আমরা কোথায় যাচ্ছি? রোজা এলেই বিএসটিআই পণ্যের মান পরীক্ষা করে। রোজার সঙ্গে এর সম্পর্ক কি? খাবার তো সারা বছরই খেতে হয়। তাহলে সারা বছর প্রতিষ্ঠানটি কি করে? ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নামে একটি বিশেষ সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরা বড় বড় অফিস নিয়ে বসে আছে। তাদের কাজটা কি? তারা দায়িত্ব পালন করতে না পারলে অফিস ছেড়ে দিক।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান বলেন, বিএসটিআই যদি চিহ্নিত করে থাকেন ৫২টি পণ্য নিম্নমানের তাহলে কেন তারা বসে আছে? লাইসেন্স বাতিল করলেই তো হয়ে যায়। শুনানি শেষে রবিবার আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে আদালত।

যে ৫২ পণ্য নিম্নমানের: শমনম, গ্রীন ব্লিচিং, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল এবং সিটি অয়েলের সরিষার তেল; কাশেম ফুডের চিপস; আরা ফুড, আল সাফি, মিজান, মর্ণ ডিউ, ডানকান, আরা এবং দিঘীর ড্রিংকিং ওয়াটার; ডুডলি নুডলস; শান্ত ফুড এবং জাহাঙ্গীর ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার; ডলফিন, সান ফুড, মঞ্জিল, ড্যানিশ, প্রাণ এবং ফ্রেশের হলুদ গুঁড়া; এসিআইয়ের ধনিয়ার গুঁড়া; প্রাণ এবং ড্যানিশের কারি পাউডার; বনলতার ঘি; সূর্য, ডলফিন, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুঁড়া; প্রাণ, অমৃত, জেদ্দা, কিরন, মিষ্টিমেলা, মধুবন, মিঠাই এবং ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই; তিন তীর, তাজ, মদীনা, নুর, দাদা সুপার, মধুমতি, এসিআই এবং মোল্লা সল্টের আয়োডিন যুক্ত লবণ। তালিকায় আরো আছে কিং’য়ের ময়দা, রুপসার দই, মক্কার চানাচুর, মেহেদীর বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডস-এর সুজি এবং গ্রীন লেনের মধু।