দলের আট নেতাকে একযোগে প্রেসিডিয়াম সদস্য করলেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। জাপায় হুটহাট যে কাউকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হলেও কাউন্সিল ছাড়া একত্রে এতজনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করার ঘটনা এই প্রথম। এ নিয়ে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারাও বিরক্ত। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সংখ্যা কত নির্দিষ্ট করে এখন এই প্রশ্নের জবাবও দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে ধারণা করা যায় অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো ‘সাংগঠনিক নির্দেশ’ শিরোনামের এক চিঠিতে বলা হয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে তাদেরকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। চলতি মে থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে। নতুন আট প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেন—সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত্, কাজী মামুনুর রশিদ, সাবেক এমপি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, নাজমা আকতার এমপি, আব্দুস সাত্তার মিয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া ও রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি। আরেক চিঠিতে মাহমুদুর রহমান মাহমুদকে জাপা চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এরশাদ।
আটজনকে একসঙ্গে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা বিশেষ করে জুনিয়র কয়েকজনকে দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সদস্য করার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। গতকাল রাতে তিনি টেলিফোনে ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি দলকে চিঠি দিয়ে এই পদত্যাগের কথা জানিয়ে দিয়েছি। একজন সাধারণ সদস্য বা কর্মী হিসেবে দলে থাকবো, এটাই বরং বেশি সম্মানের।’
এদিকে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকা এরশাদ অতীতের তুলনায় বর্তমানে ঘন ঘন সাংগঠনিক নির্দেশনায় স্বাক্ষর করছেন। কারা কখন কী উদ্দেশে এসব চিঠিতে তাকে দিয়ে স্বাক্ষর করাচ্ছেন তা নিয়ে দলের নেতাদের ভেতরে নানা কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, নানা স্বার্থবাদী গ্রুপ নিজেদের প্রয়োজনে এরশাদকে দিয়ে নানা ধরনের চিঠিতে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছেন। অসুস্থ এরশাদ এখন আগের মতো নিজের স্বাক্ষরটিও ঠিকমতো করতে পারছেন না। ফলে কোনটা আসল, কোনটা নকল সেটি বোঝাও দায়।
আটজনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করার নির্দেশনা সংবলিত চিঠিতে এরশাদের যে স্বাক্ষর তা তার চিরচেনা স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল নেই। আর মাহমুদুর রহমানকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা করার চিঠিতে এরশাদের স্বাক্ষর আঁকাবাঁকা। এই চিঠিতে স্বাক্ষরের সঙ্গে এরশাদের সিলও রয়েছে। তবে আটজনকে প্রেসিডিয়াম করার চিঠিতে সিল নেই। ফলে নানারকম স্বাক্ষরও দলটির নেতাদের ভেতরে পারস্পরিক সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। এরশাদ নিজেও সম্প্রতি থানায় জিডি করে বলেছেন, তার অসুস্থতার সুযোগে অনেকে নানা কাগজে তার স্বাক্ষর নিচ্ছেন।
এরশাদের অবর্তমানে রাজনীতিতে বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হবে: জি এম কাদের
এদিকে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের গতকাল রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এরশাদের অবর্তমানে শুধু জাপাতেই নয়-বাংলাদেশের রাজনীতিতেই বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, সবাই মিলেই ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা জাপাকে ধরে রাখবো। এরশাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন প্রজন্মের শক্তিকে কাজে লাগাবো। নবীন ও প্রবীণের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে জাপা সামনে এগিয়ে যাবে।