সিরিয়া ফেরত ‘আইএস জঙ্গি’ মুতাজ আব্দুল মজিদের সহযোগীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট- সিটিটিসি। এজন্য মুতাজের ব্যবহূত মোবাইলফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার কাছ থেকে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে না পারা মুতাজ অনেক তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, মুতাজ একমাত্র আরবি ভাষায় কথা বলতে পারে। এজন্য জিজ্ঞাসাবাদে দোভাষীর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত রবিবার রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে সিরিয়া ফেরত জঙ্গি মুতাজ আব্দুল মজিদ কফিল উদ্দিন বেপারী ওরফে মুতাজকে (৩৩) গ্রেফতার করে সিটিটিসি। বংশানুক্রমে বাংলাদেশের নাগরিক মুতাজ সৌদি আরব থেকে আইএস’র হয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে গিয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা। সিটিটিসির উপ-কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মুতাজকে গুরুত্ব দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু সে অনেক কিছুই আড়াল করার চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে তাকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘মুতাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তার ব্যবহূত মোবাইলফোন ঘেঁটে বিভিন্ন দেশের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, মুতাজ বাংলাদেশে নব্য জেএমবির যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, তাদেরও পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তার বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম চৌধুরী ও ব্রিটিশ নাগরিক সামিউন রহমান ইবনে হামদুনের উদাহরণ দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, তারাও বাংলাদেশে এসে স্থানীয় জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সংগঠিত করেছিল। মুতাজেরও একই পরিকল্পনা থাকতে পারে।
সৌদি আরবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মুতাজের বাবা মৃত আব্দুল মজিদ বেপারী বাংলাদেশি হলেও মা হালিমা পাকিস্তানের নাগরিক। তার বাবার বাড়ি শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানাধীন রশিদ বেপারীর কান্দি গ্রামে।