শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত
প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৩, ২১:০২
দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে
বাংলাদেশ অনন্ত সম্ভাবনার দেশ। এর ভেতর এত সম্পদ রয়েছে যা কল্পনা করা যায় না। অথচ এই সম্পদকে আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। এর কারণ খুব সহজ। আমাদের রাজনীতিতে হিংস তা। আমরা এমন একটা দেশে বাস করি যে দেশে একদল আর একদলকে শত্রু মনে করে। একজনের চেহারা আর একজন দেখে না। কথায় কথায় গীবত্ করা যেন স্বভাবে পরিণত হয়েছে। আর এ কারণে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে আমরা পরিত্রাণ পাচ্ছি না। দেশে পাঁচ বছর পর পর সংসদ নির্বাচন হবার কথা। কিন্তু আমরা কি লক্ষ্য করি, নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসে রাজনীতিতে তত অস্থিরতা বাড়তে থাকে। ভাঙচুর, হরতাল, অবরোধ, মারামারি যেন নিত্য ব্যাপার হয়ে যায়। এতে করে যে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয়, এদিকটা নেতৃবৃন্দ কখনই ভাবেন না। তারা মনে করেন, আমরা যা করছি, তা দেশের কল্যাণের জন্যই করছি। কিন্তু আসলে তা নয়। এই রকম মারামারি বা হানাহানি অর্থনীতিকে পঙ্গু করে ফেলে। আমাদের নেতা- নেত্রীবৃন্দ যদি একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করেন, তাহলে তারা দেখবেন জনগণ শান্তি চায়, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চায় এবং ক্ষমতা হস্তান্তর চায়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্তই হচ্ছে সকল ক্ষেত্রে শান্তি। আর আমাদের দেশে নির্বাচন পূর্ব এবং নির্বাচনোত্তর যে সমস্যার সৃষ্টি হয়, তা বড়ই নির্মম। দেশকে সমৃদ্ধ করতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী অর্থনীতি। এ কাজটা রাজনীতিবিদরা করতে পারেন। তারা দেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দিয়ে যিনি জয়লাভ করবেন তার নিকট শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তাহলেই কেবল দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা যাবে এবং দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
বেলায়েত হোসেন
২য় বর্ষ(অনার্স)
রাস্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ
নেত্রকোনা সরকারি কলেজ
শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হলে দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হতে পারে
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর এর কোন বিকল্প নেই। এক সরকারের মেয়াদ শেষে আবার নতুন সরকার কিংবা পুরাতন সরকার ক্ষমতা লাভ করবে; এভাবেই গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ঘটলে শুরু হবে জ্বালাও-পোড়াও-এর রাজনীতি। তখন গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে। হরতাল, দাঙ্গা, সমাবেশ, পাল্টা সমাবেশ, মিছিল, পুলিশ, লাঠিচার্জ এগুলো ছড়িয়ে পড়বে সমাজে। তাতে কি হবে? এতে করে জনগণ কাজে যেতে পারবে না; ঘরে বসে থাকবে হবে, না হয় বিশ্বজিত্-এর মতো রাস্তায় পড়ে মরে থাকতে হবে। এতে করে কি অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে? নিশ্চয় না, যেখানে একদিনের হরতালে শতশত কোটি টাকা লস হয় সেখানে কিভাবে অর্থনীতির অগ্রগতি সাধিত হবে! যাদের পায়ে ভর দিয়ে অর্থনীতি অগ্রসরমান সেই সব কুলিমজুর, ফুটপাতের দোকানদার, হকার, পোশাকশ্রমিক; তারা কি তাদের কাজ নিশ্চিন্তভাবে করতে পারবে? হয়তোবা বৌ-বাচ্চারা বলবে আজকে আর বাইরে যাবার দরকার নেই, কিন্তু তাদের কি বাইরে যাবার দরকার ছিল না। অর্থনীতির যদি উন্নতি করতে হয় তবে তাদেরকে বসে থাকলে চলবে না। সুতরাং সামগি্রকভাবে বলা যায় যে, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হলে দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হতে পারে, যা অর্থনীতির অগ্রগতির পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। তাই এজন্য সরকার ও বিরোধী দলকে সংলাপে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো উচিত বলে আমরা মনে করি।
আরিফুল ইসলাম
ভেটেরিনারি অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্ষমতার লোভ দুই দলের, রোষানলে অর্থনীতি, দুর্ভোগ জনগণের
এদেশে গত কয়েক বছরে একের পর এক দুর্নীতি, লুটপাট-এর কারণে অর্থনৈতিকভাবে অনেক বিপর্যয় নেমে এসেছে। শেয়ার বাজার, হলমার্ক, ইউনেপেটুইউ, ডেসটিনিসহ নানা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে সর্বস্ব হারিয়েছে এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। যতই ঘনিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচন ততই দেশ নানানভাবে সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশ বর্তমানে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনীতিকসহ নানা দুর্যোগের মধ্যে আছে। একদল যুদ্ধাপরাধী অন্য দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই বলে দেশের রাজনৈতিক মাঠ গরম করে তুলছে। সাথে নতুন শক্তি গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলাম দেশের চলমান পরিস্থিতি আরো তীব্র করে তুলছে। এখন প্রয়োজন এদেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অপেক্ষায় ষোল কোটি বাংলার মানুষ। সংঘাত লেগে আছে এখন প্রতিনিয়ত। দেশের বর্তমান অর্থনৈতির অবস্থা বড়ই করুণ। শুধু বিশ্ব মন্দার দোষ দিয়ে দেশের এই করুণ অবস্থা সরকার ধামাচাপা দিতে যাচ্ছে। দেশে বেকার সংখ্যা গত দুই বছরে বেড়েছে অনেক গুণ। সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরির বয়স দুই বছর বাড়িয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মকে আরো দুই বছর বেকার করে রাখল। এতে অথনৈতিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেকারদের মানববন্ধ হচ্ছে এখন দেশে যা আগে এত লক্ষ্য করা যায়নি। গত পাঁচ বছরে এদেশে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় আড়াই হাজার পোশাক কারখানা। এক ভেবে দেখুন গত পাঁচ বছরে দেশে নতুন আড়াই হাজার কারখানা খোলা হয়েছে কিনা। শেয়ার বাজার ব্যবসায়ীরা এখন বেকার। হলমার্কের কর্মচারীরা এখন বেকার । বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে । অনেক দেশ থেকে অনেক শ্রমিক দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ছোট খাট যারা দোকানদার তাদের সাথে কথা বললে তারাও একই কথা বলে তাদের বেচা বিক্রি গত কয়েক বছরের চাইতে এই বছর খারাপ যাচ্ছে। দেশের এমন অবস্থায় যদি নির্বাচন নিয়ে অশান্তি শুরু হয় তাহলে দেশের অর্থনৈতির চাকা ঘুরা গতি শূন্যতে নেমে আসবে। এখন শুধু সাধারণ মানুষ আর ব্যবসায়ীরা নয়, মিডিয়া বন্ধের জন্য বেকার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার সংবাদ কর্মীও। অল্পকিছু দিনের ব্যবধানে বন্ধ হয়েছে কয়েকটি মিডিয়া। যাতে কাছ করত প্রায় দুই হাজার কর্মী। সরকার সংলাপের কথা বলছে বিরোধী দলগুলোকে কিন্তু আবার শর্ত দিয়ে দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু ছাড়া সংলাপ হবে, আবার বিরোধী দল বলছে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু ছাড়া কোন সংলাপ হবে না। এদেশের রাজনৈতিতে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। মাঝখানে জনগণকে মরতে হচ্ছে যাঁতাকলে পড়ে। ভাত-কাপড়ে কষ্ট করবে জনগণ। তারাতো জনগণকে ছুষে খাচ্ছে। দেশের এই কঠিন অবস্থায় প্রয়োজন দুই দলেরই সংলাপ আর যে আলাপই হোক সমঝোতার মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলকে একলাইনে আসা। দুই নেত্রীর রসানলে দেশের অর্থনৈতিক বারটা এর অনেক আগেই বেজেছে। এখনই সচেতনতা প্রয়োজন । যাতে সামনের কঠিন পথগুলো সহজে পাড়ি দেওয়া যায়। যথাসময়ে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা আমার মতে সব রাজনৈতিক দলের জন্য দরকার। বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করুন। অথনৈতিকভাবে তাদের উপর আর অবিচার করবেন না।
এম সাবউদ্দিন রাসেদ
বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং
ইউনির্ভাসিটি অফ সাউথ এশিয়া, ঢাকা